কলকাতা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার আগে রণক্ষেত্র গিরিশ পার্ক। ব্রিগেডগামী বিজেপি সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। যা ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। একের পর এক ইট ছোড়ার অভিযোগ। নরেন্দ্র মোদির সভায় যাওয়ার সময় বিজেপি সমর্থকরা গিরিশ পার্কে শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তারপরে পাল্টা আক্রমণ। পাল্টা আক্রমণকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, পুলিশ তৃণমূলের লোকেদের সাহায্য করেছে। অতর্কিতে আক্রমণ হয়েছে। পাথর ছোড়া হচ্ছে। ইটের ঘায়ে রক্তাক্ত একজনকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের সামনে ইট-বৃষ্টি, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মোদির সভার অনতি দূরেই এই ঘটনায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের একাংশ অবরুদ্ধ।

Continues below advertisement

মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, "সমস্ত গুন্ডা-মাওয়ালিদের নিয়ে আজ সভা করছে। নয়ছয় করেছে। এরা গুন্ডাও নয়, এরা খুনি। যেভাবে আক্রমণ করছে এরা সাধারণ খুনি নয়। এরা খুন করতে পারে। দেখুন না। বিহার-ঝাড়খণ্ড কোথা থেকে নিয়ে আসছে। এরা বাংলাকে দখল করবে খুন করে। গণতন্ত্রের খুন। মানুষকে আহত করছেন। গণমাধ্যম দেখুক। গণমাধ্যম আর কত সমর্থন করবে ওদের ? এই করে ওরা মাথায় উঠে গেছে। সাহস দেখুন। আপনাদের ক্যামেরা চলছে, আপনাদের সামনে পুলিশকে আক্রমণ করা হয়েছে। এরা কারা ? এরা গুন্ডা।" মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার সময় পুলিশ কোনওরকমে মন্ত্রীর বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখেন। সেই সময় এক পুলিশকর্মী আক্রান্ত হন। তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। ইট ছুঁড়ে মন্ত্রীর বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের তরফে ব়্যাফ বাহিনীকে নামানো হয় সেখানে। কিন্তু, বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, তাঁরা যখন নরেন্দ্র মোদির সভার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন ফ্লেক্স ছেঁড়া হয়। তৃণমূলের তরফেও অভিযোগ করা হয়, তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

Continues below advertisement

এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, শহরে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল সেগুলো কি ব্যবহার করা হল ? তার কারণ, আজ ব্রিগেডে দেশের প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন। সেই বাহিনীর ব্যবহার কি আদৌ হয়েছে ? এর পাশাপাশি, পুলিশের সামনেই মুড়ি-মুড়কির মতো পাথর-পাল্টা পাথর পড়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাধিক মানুষ রক্তাক্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ সামনে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় পুলিশের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না বলে অনেকের দাবি। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ লাগোয়া গিরিশ পার্ক কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল।