কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মুখোপাধ্যায় ও কমলকৃষ্ণ দে, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে অন্য পুলিশের ছবি দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী। যে পুলিশের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ইশারায় কাজ করার অভিযোগ তোলে বিরোধীরা, দ্বিতীয় দফার ভোটে, সেই পুলিশকেই দেখা গেল একেবারে দবং মুডে। নিরপেক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা সামলালেন তারা। কলকাতা থেকে জেলায় দিনভর সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে পুলিশকে। 

Continues below advertisement

দিকে দিকে 'অ্যাকটিভ' পুলিশ

কথায় বলে 'মর্নিং শোজ দ্য ডে'! যে পুলিশের বিরুদ্ধে সারাবছর শাসকদলের দাসত্ব করার অভিযোগ তোলে বিরোধীরা, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন, সকাল থেকে সেই পুলিশের আচরণ বদলের আভাস দেখা গেল! আর দিন গড়াতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধরা পড়ল এই ধরনের ছবি! কখনও কলকাতা, কখনও জেলা, কার্যত 'দাবাং' ভূমিকায় পাওয়া গেল পুলিশকে! নিরপেক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা সামলালেন তারা। 

Continues below advertisement

বুধবার সাতসকালে শুরুটা হয়েছিল পটুয়াপাড়া লেনে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে! এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে, দলের নির্বাচনী কার্যালয়ের উল্টোদিকেই কয়েকজনকে নিয়ে বসেছিলেন কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বামী। এই অবস্থায় সেখানে পৌঁছন কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস। কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেখান থেকে উঠে যেতে বলেন।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: তৃণমূল কর্মীর দেওয়া কোল্ড ড্রিঙ্কস খেলেন, বললেন, 'গেরুয়া পোশাক পরে ভোট দিয়েছেন মুসলিম ভোটার', শুভেন্দুর সারাদিন

পরের ঘটনাও খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নির্বাচনী ক্ষেত্রেই! ঘটনাস্থল হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের জয়হিন্দ ভবনের ভোটকেন্দ্রের সামনে। এর কিছুক্ষণ আগেই, এই এলাকায় বিজেপি প্রার্থী শুভেনদু অধিকারীকে ঘিরে জয় বাংলা ও চোর স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মীরা। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ডি পি সিং। পুলিশ কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে এলাকা ফাঁকা করিয়ে দেওয়া হয়। অলি-গলিতে ঢুকে পুলিশ কর্মীরা তাড়া দিয়ে সরিয়ে দেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের!

পুলিশের ভোলবদল?

বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। জোড়াসাঁকো বিধানসভার একটি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে বেআইনি জমায়েতের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়েই দ্রুত পৌঁছে যায় পুলিশ! শুরু হয় লাঠিচার্জ! একদম অ্যাকশন মোডে নিমেষে এলাকা ফাঁকা করে দেন পুলিশ কর্মীরা। কলকাতায় ভোটের দিন হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে ওঠা এই পুলিশের ছবি দেখা গেছে জেলাতেও! এই ছবি বর্ধমান শহরের গুড়পট্টি এলাকার।  ভোটের দিন সকালে রাস্তার ওপর চেয়ার পেতে বসেছিলেন বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছুটা দূরেই ছিল বুথ। এই অবস্থায় বুথের কাছে অবৈধ জমায়েতের অভিযোগ করা হয় বিজেপির তরফে। আর তারপরেই, সেখানে এসে হাজির হন দুই পুলিশ কর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান। একেবারে দাবাং ভূমিকায় লাঠি উঁচিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে এগিয়ে যান এক পুলিশ কর্মী! চোখের নিমেষে লাঠির বাড়ি গিয়ে পড়ে চেয়ারে! হাঁটতে শুরু করেন শাসকদলের নেতা। আর সেই চেয়ারই লাথি মেরে কার্যত উড়িয়ে দিলেন সেই পুলিশকর্মী!

'দাবাং' কলকাতা ও জেলা পুলিশ! পুলিশের 'ভোলবদল' কিসের ইঙ্গিত? দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের দিঘির পাড় এলাকার ২৩৪ নম্বর বুথ পরিদর্শনে গেলে ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকিকে দেখে জয় বাংলা স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মীরা। তখনই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু'পক্ষ! খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ।