কলকাতা: একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হল ৭৩জন রিটার্নিং অফিসারকে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের আগেই একসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার বদল। কলকাতা থেকে কোচবিহারের একাধিক রিটার্নিং অফিসার বদল। দুই ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর থেকে বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ। প্রায় সব জেলাতেই একাধিক রিটার্নিং অফিসার বদল।
কত ভোটারের নাম 'বিবেচনাধীন'? তাঁদের নথিপত্র যাচাই করছেন কারা? কী নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট? প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরনোর আগে কোন কোন ধাপে এগিয়েছে এই কাজ? দেখুন। খসড়া তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেয়েছিল। আর এবার SIR-এ 'বিবেচনাধীন' ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা নথিপত্র যাঁচাই করার পর, এই তালিকা। ২৮ ফেব্রুয়ারি, প্রকাশিত হয়েছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। যেখানে, ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ যাওয়ার পাশাপাশি, ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ছিল 'বিবেচনাধীন' অর্থাৎ আন্ডার অ্য়াজুডিকেশনের তালিকায়।
কার নাম বাদ, আর কার নাম বিবেচনাধীন। তা চূড়ান্ত ভোটার তালিকাতেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। জেলা ভিত্তিক তথ্য ধরলে, বিবেচনাধীন ভোটার তালিকার শীর্ষে ছিল মুর্শিদাবাদ। ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫। মালদায় বিবেচনাধীন ভোটার, ৮ লক্ষের কিছু বেশি। মুর্শিদাবাদ, মালদার পরেই দুই ২৪ পরগনা। উঃ ২৪ পরগনায় প্রায় ৬ লক্ষ। দঃ ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৪২ জন, উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যাটা প্রায় ৫ লক্ষ। পূর্ব বর্ধমানে সাড়ে ৩ লক্ষের বেশি। সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ভোটার লিস্ট চূড়ান্ত না করে ভোট হতে পারে না। ইলেকশন কমিশন হড়বড় করলে তো হবে না। (ভোট) এক মাস পরে হলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হবে? প্রদেশ কংগ্রেস প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন,বাংলার মুখ্য়মন্ত্রীকে আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি, আপনি সুপ্রিম কোর্ট যান, দরকার হলে, আপনি এইভাবে যদি, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট হয়, তাহলে সেই ভোট বয়কট করার আহ্বান জানান।+বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে, এখন তার কাছে হাতিয়ার SIR.চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই, ২০ ফেব্রুয়ারি, নজিরবিহীন নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য় বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, SIR-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ডিস্ট্রিক্ট জজ বা অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজকে নিয়োগ করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। জুডিশিয়াল অফিসারদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়োগ করতে হবে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে যে স্ক্রুটিনি বাকি রয়েছে, সেগুলির শুনানি করে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
