বিজেন্দ্র সিংহ, সৌভিক মজুমদার, নয়াদিল্লি : নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ১৩ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই কর্মীরা কাজ করবেন। গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের করা মামলায় এমনটাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে বিভাজন আসছে কোথা থেকে? শনিবারের শুনানিতে এই প্রশ্নও তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে গণনা মামলায় হাইকোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্টেও কার্যত ধাক্কা খেল তৃণমূল।
ভোট গণনায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের ( Supreme Court ) দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC ) । শুক্রবার সেই মামলার শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের ৩ এপ্রিলের নির্দেশিকাকেই কার্যত মান্যতা দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কাউন্টিং সুপারভাইজার ও কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই কাজ করবেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নাকি রাজ্য সরকারি কর্মী, তা নিয়ে আলাদা করে বিভাজনের কোনও অর্থ নেই বলেই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, “যদি তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন, তাহলে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী না রাজ্যের কর্মী, তাতে কী এসে যায়?” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “গণনা কেন্দ্রে তো সমস্ত রাজনৈতিক দলের এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন। তাহলে অসুবিধা কোথায়?”শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমিশনের কাছে কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় সরকারি কর্মীদের মধ্য থেকেই আধিকারিক বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আরও মন্তব্য করেন, “কমিশন যদি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করে, তাতে সমস্যা কোথায়?” বিচারপতি পি এস নরসিংহও পর্যবেক্ষণে বলেন, “রাজ্য হোক বা কেন্দ্র, এঁরা সবাই সরকারি কর্মী। এই বিভাজন আসছে কোথা থেকে?” এদিন নির্বাচন কমিশন আদালতে জানায়, সমস্ত গণনা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসাররা রাজ্যের কর্মীই থাকবেন।
শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, আলাদা করে নতুন কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তা মেনেই গোটা গণনা প্রক্রিয়া চলবে।
আরও পড়ুন : স্ট্রং রুমের ভিতর থেকে তৃণমূল কর্মীদের ফেসবুক লাইভ, জয় বাংলা স্লোগান! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী
