কলকাতা:শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল কালীঘাটে। স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে যেমন তপ্ত হয়ে উঠল পরিবেশ, তেমনই হাতাহাতি-মারামারিও বাদ গেল না। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছাকাছি উত্তেজনা চরমে পৌঁছল। পরিস্থিতি এমন হল যে সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হল পুলিশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। (Suvendu Adhikari Nomination Chaos)
বৃহস্পতিবার ভবানীপুর থেকে মনোয়নপত্র জমা দেন শুভেন্দু। তার আগে হাজরা মোড় থেকে রোড শো করেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেই রোড শো-র অগ্রভাগে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ছিলেন রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অন্য বিজেপি প্রার্থীরাও। সেই রোড শো কালীঘাটের কাছাকাছি পৌঁছতেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। (Amit Shah Roadshow in Bhowanipore)
বিজেপি-র তরফে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে যখন 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তোলা হচ্ছিল লাগাতার, উল্টো দিক থেকে 'জয় বাংলা' স্লোগান ভেসে আসতে শুরু করে। দলীয় পতাকার সঙ্গে কালো পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তা জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। মাইকে দলের গানও বাজানো হয়। শুভেন্দু-শাহকে কালো পতাকা দেখান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা, বিক্ষোভও দেখান।
রোড শো যখন মমতার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছয়, সেই সময় 'চোর চোর চোরটা, শিশিরবাবুর ছেলেটা' বলে স্লোগান তোলা হয়। এক তৃণমূল সমর্থক বলেন, "একদিনের জন্য এসে ভবানীপুর দখল করতে পারবেন না। ৩৬৫ দিন এখানে মা-মাটি-মানুষের সরকার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকেন। এভাবে এন্ট্রি করতে দেব না আমরা।"
এর পর রোড শো মমতার বাড়ির সামনে পৌঁছতেই কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা জোরে জোরে স্লোগান তুলতে শুরু করেন। পাল্টা স্লোগান তোলেন বিজেপি-র কর্মী-সমর্থকরা। একদিকে, তৃণমূলের পতাকা, অন্য দিকে, বিজেপি-র পতাকা, বাড়তে শুরু করে উত্তেজনা। দুই পক্ষ একেবারে মুখোমুখি চলে আসে। মারপিট শুরু হয়ে যায়। বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মীরা পরস্পরকে চড়-থাপ্পড় কষিয়ে দেন। দুই দলের কর্মীরাই তেড়ে যান পরস্পরের দিকে।
এক তৃণমূল কর্মী বলেন, "অমিত শাহ টাকা খরচ করে কেন এসেছেন? জিতবে তো দিদিই!" আর একজন বলেন, "এরা ঘুরতে এসেছে। ৪ তারিখের পর কাউকে দেখা যাবে না। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ছিলেন, আছেন থাকবেন।" পুলিশ দুই পক্ষকে নিরস্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু মারমুখী হয়ে ওঠে দুই পক্ষই।
সেই পরিস্থিতিতে রোড শো-র গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে চেপে সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা দেন শাহ এবং শুভেন্দু। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এর পর সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে মাইক বাজানো নিয়েও শুরু হয় বিবাদ। সেখানে হিমশিম খেতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।
