অনির্বাণ বিশ্বাস, মধ্যমগ্রাম : নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এই খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। আর সেই গাড়ির ব্যাপারেই এবার সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গতকালই ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছিলেন, যে চারচাকা গাড়ি এই খুনের ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে, তার নম্বর প্লেট ট্যাম্পার করার অর্থাৎ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ গাড়ির সম্পর্কে তথ্য জানতে একটি বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্য নেয়। সেখানে গাড়ির চেসিস নম্বর দিলেই যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এই গাড়িটির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, চেসিস নম্বর যেখানে যেখানে থাকার কথা, যেমন বনেট, দরজা কিংবা গাড়ির অন্যান্য অংশ - সব জায়গা থেকে ওই চেসিস নম্বর নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে, ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর থেকে পুলিশের অনুমান, কোনও সাধারণ দুষ্কৃতীর পক্ষে এত সুচারু ভাবে পরিকল্পনা করে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা সম্ভব নয়। এই খুনের ঘটনার কিনারা করতে কাজ করছে পুলিশের একটি বিশেষ দল। বারাসাত, মধ্যমগ্রাম, দোলতলা এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের তরফে। কী কারণে এই খুন তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার ৯ ঘণ্টা পার হলেও এখনও আততায়ীদের কারও নাগাল পায়নি পুলিশ।
মধ্য়মগ্রামের রাস্তায় পয়েন্ট ব্ল্য়াঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। সেই ঘটনাতেই উঠে এল চাঞ্চল্য়কর তথ্য়। পুলিশ সূত্রে দাবি, গাড়ি করে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া দিয়ে যাচ্ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় একটি গাড়ি এসে তাঁর পথ আটকায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যে গাড়িটি রাস্তা আটকায়, সেটি উইলিয়াম জোশেফ নামে এক ব্য়ক্তির নামে রেজিস্টার্ড। তিনি শিলিগুড়ির বাসিন্দা। পেশায় টি ইন্ডাস্ট্রির একজন কর্মী। কিন্তু তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়ি তাঁর কাছেই শিলিগুড়িতে রয়েছে। অর্থাৎ পুলিশ সূত্রে দাবি, অত্য়ন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গাড়ির মডেল, এমনকী নম্বর প্লেট নকল করে এই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
গাড়ির জানলায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি, তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে... চন্দ্রনাথ খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুনের ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্য়কর তথ্য়। পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১০ থেকে ১০.১৫-র মধ্য়ে। জানা যাচ্ছে, হামলার সময় গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ ও তাঁর গাড়ির চালক। পিছনের সিটে ছিলেন মিন্টু নামে একজন, যিনি চন্দ্রনাথ রথের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনায় মোট ৩জন আততায়ী ছিল। একজন গাড়ি চালিয়ে এসেছিল। অন্য় ২ জন ছিল মোটরবাইকে। সূত্রের দাবি, চন্দ্রনাথ রথ যে গাড়িতে ছিল, সেটির সামনে আড়াআড়িভাবে রাস্তা আটকে দাঁড়়িয়ে যায় চার চাকা গাড়িটি। ফলে গাড়ি থামাতে হয় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি চালককে। এরপরই গাড়ির ২ দিক থেকে আসে ২টি মোটরবাইক। শুরু হয় গুলি চালানো। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথের মৃত্য়ু নিশ্চিত করতে জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তাতে যে গর্ত তৈরি হয়, সেখান থেকে একের পর এক গুলি করতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। মোট তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের। অন্য়দিক থেকে গুলিতে আহত হন গাড়ির চালক।
