কলকাতা: ভোটের ফলাফল ঘোষণার দুইদিন পরেই দুঃসাহসিক শ্যুটআউট। আর তাতেই প্রাণ হারালেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক (Suvendu Adhikari PA Murder) চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)। তবে আততায়ীদের টার্গেটে কি শুধু তিনিই ছিলেন?

Continues below advertisement

সূত্রের খবর অনুযায়ী তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে আততায়ীদের হামলার নিশানায় ছিলেন একমাত্র চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর শ্য়ুটআউট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গাড়ির বাঁ দিকে বসেছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক। গাড়ি দিয়ে রাস্তা আটকানোর পর, গাড়ির বাঁদিকেই সরে আসে আততায়ী। জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে পরপর গুলি করা হয়। চালক আততায়ীদের নিশানায় ছিলেন না, চন্দ্রনাথের পাশে থাকায় চালকের গায়ে গুলি লাগে'গাড়িতে তৃতীয় একজন ছিলেন, যাঁর নাম মিন্টু। তবে তাঁকে টার্গেটে করা হয়নি, তাঁর কোনও আঘাত লাগেনি বলেই খবর পুলিশ সূত্রের।

'শ্যুটআউটের পর মিন্টুই গাড়ি চালিয়ে চন্দ্রনাথ ও তাঁর গাড়িচালককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কেন চন্দ্রনাথকে টার্গেট করা হল, কারা এর মাস্টারমাইন্ড? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। গোটা বিষয়টির নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র আছে, মনে করছেন তদন্তকারীরা, খবর সূত্রের।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- বাড়ির ১৫০ মিটারের মধ্যেই খুন! শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী জানাল পুলিশ?

এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে এবং কেন চন্দ্রনাথ রথকে টার্গেট করা হল, সেই প্রশ্নই এখন সকলের মাথায় ঘোরাফেরা করছে। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, গোটা ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের ছাপ রয়েছে। হামলাকারীরা আগে থেকেই রুট এবং গাড়ির অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল বলেও অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আততায়ীরা কোন পথে পালাল এবং হামলায় কতজন জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 

চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে গোটা হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আততায়ীরা অনেক আগেই ছক কষে মাঠে নেমেছিল। ঘটনাস্থল, পালানোর রাস্তা থেকে শুরু করে ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইকের নম্বর পর্যন্ত—সব কিছুতেই মিলছে সুপরিকল্পিত অপরাধের ইঙ্গিত। 

তবে এতকিছুর পরেও চন্দ্রনাথের মা দোষীদের শাস্তি চাইলেও, তিনি কারুর ফাঁসি চান না। তাঁর বক্তব্য, 'আমি চাইছি দোষীরা শাস্তি পাক। আমি একজন মা তো, তাই চাইব না কারুর ফাঁসি হোক। তবে দোষীদের যাবজ্জীবন সাজা চাইছি।'