Continues below advertisement

শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা :  ব্যাটেলগ্রাউন্ড ভবানীপুর। এই কেন্দ্রই এবার বিধানসভা ভোটের এপিসেন্টার। নন্দীগ্রামের পরে এবার ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-শুভেন্দু অধিকারী দ্বৈরথ। দুই মহারথীর নামেই এলাকায় শুরু হয়ে গেছে দেওয়াল লিখন। কার্যত উত্তেজনায় ফুটছে এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যেই দুইপক্ষের বাগযুদ্ধ চরমে। 

২৫ হাজার ভোটে ভবানীপুরে জিতবেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে প্রচার শুরুর দিনই ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। 'হিন্দু নববর্ষের দিন' পুজো দিয়ে শুরু করলেন প্রচার।  ভোটের কুরুক্ষেত্র ভবানীপুর প্রচারপর্ব শুরু থেকেই সরগরম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোমগ্রাউন্ডে এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে নেমেছেন শুভেন্দু । অধিকারীর প্রচার ঘিরে উৎসবের মেজাজে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, মিছিল করে চক্রবেড়িয়ায় পার্টি অফিসে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। লাড্ডু, রজনীগন্ধার মালায় বরণ করে নেওয়া হয় তাঁকে। মাঠে নামা থেকেই আত্মবিশ্বাস চরমে বিরোধী দলনেতার। বললেন, 'যাঁদের সেলফ কনফিডেন্স আছে, তাদের আধুনিক কালে বলে ধর্মযোদ্ধা। আমার সেলফ-কনফিডেন্স আছে, আমি স্বামীজীর মন্ত্র নিয়ে চরৈবেতি চরৈবেতি মন্ত্র বলি, মমতা ব্যানার্জিকে এখানে হারাব। আমি স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্য, আমার দীর্ঘ ৩৩-৩৪ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনগণের সঙ্গে থাকি, মানুষ পরিবর্তন করবে, নরেন্দ্র মোদির আশীর্বাদধন্য বিজেপির প্রার্থী, আমাকে জেতাবেন। শুভেন্দু আরও বলেন, 'এখানকার লোক মুক্তি চায়। আমাকে এক্ষুনি বাজার, হকার, দোকানদার সব বলছে, দাদা ওর এবং ওর পরিবারের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ, আমাদের বাঁচান। সেই জন্য মোদিজি আমাকে পাঠিয়েছে।'  বৃহস্পতিবার সকালে, চক্রবেড়িয়া রোডে যখন প্রচার করছেন শুভেন্দু অধিকারী, তখনই দেখা গেল, চক্রবেড়িয়া দক্ষিণে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নামে শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন। প্রচার সেরে, দুপুরে ভবানীপুর থানায় যান শুভেন্দু অধিকারী।  তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের নোটিস দেওয়া হচ্ছে। অন্য লোকের ফোন থেকে ফোন করে হুমকি, শাসানি হচ্ছে। ধর্নায় বসবেন বলছেন। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ভবানীপুরে।  এখন দেখার এই কেন্দ্রে শেষ হাসি কে হাসে।               

Continues below advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে প্রতিপক্ষকে ম্যান মার্কিংয়ে রাখছে তৃণমূলও। চক্রবেড়িয়ার যে পার্টি অফিসে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছন, সেখানে বিজেপির মিছিলের উল্টোদিকেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে দেওয়াল লিখন করেন তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপির মিছিল, স্লোগান চলাকালীন পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাও। সব মিলিয়ে উত্তেজনা চরমে।