তৃণমূলের তালিকায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কোনও চমক দেখা গেল না! রাজনীতিবিদদের ওপরই মূলত ভরসা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বরং একগুচ্ছ নতুন মুখ দেখা গেল প্রার্থী তালিকায়। বিধানসভার যুদ্ধে প্রথমবার এমন ১৪১ জনকে রাখা হল তৃণমূলের তালিকায়, যাঁরা কেউ কেউ রাজনীতিতে তরুণ তুর্কি, কেউ আইনজীবী, কেউ সাংবাদিক। বিধানসভা ভোটের লড়াইতে আগে ছিলেন না , এবারই বোধন, এমন তালিকা লম্বা।
বিজেপির শক্তঘাঁটি উত্তরবঙ্গ। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সেই উত্তরবঙ্গেই রাজনীতিতে সদ্য় যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে একাধিকপুরনো নেতা-নেত্রীকে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে দাঁড় করাল তৃণমূল। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। তাঁকে প্রার্থী করল তৃণমূল। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা শঙ্কর মালাকারকে এবার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করল তৃণমূল। এছাড়াও রঞ্জন শীল শর্মা এবং অর্পিতা ঘোষকেও বিধানসভার ভোটযুদ্ধে নামিয়েছে দল।
নোয়াপাড়া থেকে এবার লড়াই করবেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। নোয়াপাড়া থেকে এবার লড়াই করবেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। তৃণাঙ্কুর যুবরাজনীতির পরিচিত মুখ। বর্তমানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর রাজ্য সভাপতি।
বেলেঘাটা থেকে এবার লড়াই করছেন কুণাল ঘোষ। তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে তিনিও নতুন। দীর্ঘদিন তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে কঠিন কঠিন বাউন্সার সামলেছেন। এবার রাজ্যের নির্বাচনে তিনিও লড়ছেন।
নন্দীগ্রামেও নতুন মুখ । বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করবেন দলে আসা নতুন মুখ পবিত্র কর।
এছাড়া বলতেই হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। তিনি প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। হুগলি জেলার অন্যতম ঝকঝকে মুখ।
আগে লোকসভা ভোটে লড়েছেন। এবার বিধানসভা ভোটেও দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করল তৃণমূল।
বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী, RSP নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামীকেও বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করল তৃণমূল। রাজ্যসভআর সাংসদ হিসেবে মেয়াদ পেরনোর পর এবার টিকিট পাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তিনি ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। তবে এবার তিনি উলুবেড়িয়া থেকে লড়বেন।
একদিকে যেমন বিধানসভার ভোট যুদ্ধে অনেক নেতা-নেত্রীকেই প্রথমবার ভোটে নামাল তৃণমূল, তেমনই এক ঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক এবার আর টিকিটও পেলেন না। সেই তালিকায় রয়েছে রাজ্যের ৪ মন্ত্রীও। বর্তমান বিধায়কদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-অসন্তোষের প্রভাব যাতে ভোটে না পড়ে, তার জন্য়ই কি একাধিক মুখ বদল করল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব?
