কলকাতা: উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে গোর্খা আবেগে শান দিতে শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। গোর্খাদের ইচ্ছে অনুসারে গোর্খা-সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিলেন যেমন, তেমনই গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় মামলা তুলে নেওয়া হবে বলে আশ্বাসও দিলেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি ক্ষমতায় এলে SIR-এ বাদ যাওয়া সকলের নাম ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনা বলেও ঘোষণা করলেন তিনি। আর সেই নিয়ে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। ভোটার তালিকায় নাম থাকা, ভারতের নাগরিক হয়ে থাকা কারও দয়ার উপর নির্ভর করে না বলে জানালেন কুণাল। (Kunal Ghosh Attacks Amit Shah)

Continues below advertisement

মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে গিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন শাহ। গোর্খা আবেগে শান দিয়ে বলেন, “আমাদের উপর অত্যাচার চালানো মমতাদিদিকে টাটা-বাই বাই বলার সময় হয়ে গিয়েছে। গোর্খা সমস্যার সমাধান কেবল মাত্র বিজেপি-ই করতে পারে। বাংলায় বিজেপি-র সরকার এলেই ৬ মে প্রত্যেক গোর্খার মুখে সন্তুষ্টির হাসি আনার সমাধান বের করা হবে।  আমরা আপনাদেরও বুঝি, আপনাদের সমস্যাও বুঝি।  আপনারা বিজেপি-র সরকার গড়ে দিন…নির্বাচন মিটলেই বেছে বেছে প্রত্যেক গোর্খাদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় তোলার কাজ করবে বিজেপি।" (West Bengal Assembly Elections 2026)

গোর্খা-সমস্যার কোন সমাধান বের করবেন, তা যদিও খোলসা করেননি শাহ, তবে তাঁর মন্তব্য নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এর আগে, উত্তরবঙ্গে বিজেপি-র একাধিক নেতার মুখে পৃথক উত্তরবঙ্গ গড়া বা গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছে। শাহ সেদিকেই ইঙ্গিত করছেন কি না, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, শাহ যেভাবে গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন, আর আন্দোলনে যেতে হবে না বলে যে আশ্বাস দিয়েছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিচার-বিশ্লেষণ।

Continues below advertisement

আর সেই আবহেই শাহকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কুণাল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাদ যাওয়াদের নাম পুনরায় তোলার যে অঙ্গীকার করেছেন শাহ, তা নিয়ে কুণাল বলেন, “ওঁর দয়া! ভোটার তালিকা বিজেপি-র বাবার সম্পত্তি! একজনও বৈধ ভোটারও কেন বাদ যাবে? মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে, বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন হস্তক্ষেপ আনতে হবে? অমিত শাহ যদি বলে থাকেন এগুলো পরে হয়ে যাবে, উনি করার কে? এর কাছে কী নথই আছে, ওর কাছে কী নথি আছে, ফারাকটা কী? বাংলার ভোটারদের এই হয়রানিতে ফেলেছে বিজেপি। ভোটার তালিকায় নাম থাকা, নাগরিকত্ব থাকা অমিত শাহের দয়া নয়। এই ঔদ্ধত্যের জবাব পাবেন। আপনারা নাম কেটেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করে নাম ফেরাচ্ছেন।”

সুকনা থেকে এদিন মমতাকে উৎখাতেরও ডাক দেন শাহ। তৃণমূলকে এদিন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। সেই নিয়ে কুণাল বলেন, “অমিত শাহ নিজেই তো গুন্ডাদের ভাষায় কথা বলছেন! অমিত শাহের লোকেরাই তো গুন্ডামি করে বেড়াচ্ছেন! ওসিকে হুমকি দিচ্ছেন। বাইরে থেকে লোক ঢোকাচ্ছেন। বাইরে থেকে ভুয়ো ভোটার পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে ভোট দিতে। আমরা তাঁদের বলছি, এসব পাল্লায় পড়বেন না! অন্য রাজ্যের ভোটার যদি কোনও বুথে ধরা পড়েন, যদি দেখা যায় জাল নথি নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন বিজেপি-র কথায়…বাড়িতে বলে আসবেন ফিরতে দেরি হবে। অসুবিধা হবে ফিরতে। ন্য়াড়া একবার বেলতলায় যায়, অমিত শাহ বার বার যান। উনি গুন্ডাদের ভাষায় কথা বলছেন। মানুষ এর জবাব দেবেন।”