সমীরণ পাল, গোপিবল্লভপুর: ভোটের আগে দলবদলের ছবিটা ভীষণই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে এখন। সাধারণত, প্রার্থী ঘোষণার আগেই এই দলবদলের হিড়িক দেখা যায়। অনেক সময়ে অবশ্য নির্বাচন ও প্রার্থী ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও দেখা যায় দলবদলের ছবিটা। তবে, রাত পোহালেই ভোট যখন, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূল বিধায়ক! প্রথম দফার ভোটের আগেই তৃণমূলে ভাঙনের ছবিটা প্রকাশ্যে চলে এল। বিজেপিতে যোগদান করলেন, গোপীবল্লভপুরের তৃণমূল বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো।
ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কেন দলবদলের বড় সিদ্ধান্ত?
বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) হাত থেকে পতাকা নিয়ে, উত্তরীয় পরে দলবদল করেন তৃণমূল বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। বিজেপিতে যোগ দিয়ে খগেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, 'দলের তরফ থেকে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। আমার সঙ্গে কেউ যোগাোগ করেনি। যেভাবে দল বলেছে, সেভাবেই কাজ করেছিলাম।' এদিন খগেন্দ্রনাথ মাহাতোকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'এই দুর্নীতিগ্রস্ত অপদার্থ সরকারের অপশাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করার জন্য, নরেন্দ্র মোদির সরকার পরিবর্তন চায়। গোপিবল্লভপুরের পাশেই উড়িষ্যাতে বিজেপি সরকার গঠন করেছে আজ, দেড় বছর। সেখানে কীভাবে কাজ হচ্ছে, সবাই দেখতে পাচ্ছেন। এভাবেই বাংলায় বিজেপি সরকার আসুক, মানুষের উন্নয়ন হোক। জঙ্গলমহলের মানুষেরা ভাতার থেকেও বড় কর্মসংস্থান চাইছে। তারা আধুনিক হাসপাতালের পরিষেবা চাইছে।'
'বঞ্চনা হয়েছে জঙ্গলমহলের সঙ্গে', অভিযোগ তুলে বিজেপিতে যোগ!
গত ২০২১ সালে চাকরি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। সেই সময়ে তিনি তৃণমূলের টিকিট পান। জঙ্গলমহলে তিনি প্রান্তিক মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন। ৫ বছর বিধায়ক থাকার পরে, এইবছর টিকিট পাননি তিনি। এতেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিদায়ী বিধায়কের। মানুষের সেবা করতে চান, সেই কারণেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, এমনটাই জানিয়েছেন খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। এরপরে নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই, তিনি তড়িঘড়ি বিজেপির দফতরে আসেন ও শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। তিনি বলেন, কাজ করতে চান ও সেই কারণেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হতে চান। জঙ্গলমহলের মানুষদের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়েছে, এই অভিযোগ জানান তিনি। পাশাপাশি তুলে ধরে টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভের কথাও।
