কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, আশাবুল হোসেন, শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা: দেবাশিস কুমারের বাড়ি-অফিসে আয়কর বিভাগের অভিযানের বিরুদ্ধে, এবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল। নিয়ম না মেনে অভিযানের অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমার সঙ্গে সরাসরি লড়াই করো। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান নিয়ে এইভাবে ফের সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও।

Continues below advertisement

ভোটের মুখে আর্থিক প্রতারণা মামলায়, রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি-অফিসে IT রেড নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার এ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী! শুধু তাই নয়, শুক্রবারের অভিযানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশও জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে তৃণমূলের অভিযোগ, নিয়ম মেনে এই অভিযান হয়নি! শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই এক এক করে দেবাশিস কুমারের বাড়ি, ওয়ার্ড অফিস, নির্বাচনী অফিস এমনকী শ্বশুরবাড়িতেও হানা দেন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা।

এই পরিস্থিতিতে কমিশনে লেখা চিঠিতে তৃণমূলের দাবি, জারি হওয়া আদর্শ আচরণ বিধিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল তাদের প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এমনভাবে ব্যবহার করবে না, যাতে কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর সুবিধা কিম্বা অসুবিধা হতে পারে। আয়কর দফতর কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সংস্থা হওয়ায় এটিও বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। শুক্রবারের অভিযানকে একজন বিদায়ী বিধায়ক ও নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার চালানো জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজ্যের শাসকদল। চিঠিতে তারা লিখেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটার এবং প্রচারকর্মীদের নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগে ব্যাঘাত ঘটানো এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ওপর একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা। এছাড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সুবিধা লাভের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দলীয় অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে তৃণমূল। একইসঙ্গে আদর্শ আচরণবিধি চালু থাকাকালীন দেবাশিস কুমারের বিরুদ্ধে আয়কর দফতর যাতে কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ না করে, তার নির্দেশ দেওয়ার জন্যও নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে। 

Continues below advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, 'যাতে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা, তারা একটা রাজনৈতিক দলের সুবিধা, আরেকটা রাজনৈতিক দলকে প্রতিপক্ষ মনে করে এইভাবে নির্বাচন চলাকালীন একটা কেন্দ্রীয় সংস্থা নেমে পড়তে পারে না মাঠে ময়দানে। বিজেপির তাগিদে, বিজেপির প্ররোচনায় এইসব ঘটনা ঘটছে।' অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, 'ED-র দরজায় তালা লাগিয়ে দিন, CBI-এর দরজায় তালা লাগিয়ে দিন, ইনকাম ট্যাক্স, GST-কে বলুন অফিসের বাইরে না বেরতে, দরকার হলে ছুটি নিয়ে নিন। তারপরেও এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে দেবে।'

রাসবিহারী কেন্দ্রে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। তার ঠিক ১২ দিন আগে দেবাশিস কুমারের বাড়ি-অফিসে আয়কর বিভাগের এই অভিযান ঘিরে এদিন সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন পাঁচলার সভা থেকে বলেন, 'সবাইকে ভয় দেখায়, চমকায়। এখনও প্রার্থীদের উপর ইনকাম ট্য়াক্স রেড হচ্ছে। পার্টি অফিসে ঢুকে রেড হচ্ছে। আরে হিম্মত থাকলে আয় না। আমার সঙ্গে সরাসরি লড়াই কর।' এই প্রসঙ্গে আবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি  সুকান্ত মজুমদার বলছেন, 'লড়়াই তো সরাসরি হচ্ছে এবং সেটা বিজেপি করছে। বিজেপির কাজ লড়াই করা। তৃণমূলের নেতারা চুরি করবে, আর চুরি করে বসে থাকবে, পার্টি অফিসে টাকা লুকিয়ে রাখবে, এটা তো চলতে পারে না। চোরেদের ধরার জন্য পাঁজি দেখে ধরতে হবে নাকি?'

যদিও CEO দফতর সূত্রে দাবি, এই অভিযানের সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।