কলকাতা: ইস্তফা দিতে যাননি। হারও স্বীকার করেননি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবার নিজের ‘পরিচয়’ বা বায়ো বদলে ফেললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিতেই মমতার ফেসবুক এবং X (সাবেক ট্যুইটার) বায়ো বদলে গেল। আর তাতেও রাজনৈতিক বার্তাই দেখছেন অনেকে। (Mamata Banerjee Social Media Bio)
শনিবার শুভেন্দুর শপথ ঘিরে যখন উত্তেজনায় ফুটছে শহর, সেই সময়ও, বেলা ১১টা পর্যন্তও মমতার ফেসবুক এবং X বায়োতে লেখা ছিল, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন। পশ্চিমবঙ্গের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী’। এর কিছু ক্ষণ পরই ওই বায়ো বদলে যায়, শুভেন্দু শপথ নেওয়ার পর পরই। (TMC News)
আরও পড়ুন: ‘আজ প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা পেল বাংলা’, শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিতে বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
ফেসবুক এবং X হ্যান্ডলে মমতার নয়া বায়ো হল, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (১৫, ১৬ এবং ১৭তম বিধানসভার)’। অত্যন্ত সচেতন ভাবেই মমতা মুখ্যমন্ত্রীর আগে ‘প্রাক্তন’ লেখেননি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পরই মমতা দাবি করেন, তাঁরা হারেননি। জোর করে হারানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শপথ নিতেই শুভেন্দুর নামে নেমপ্লেট বসল, খোলা হল পার্থর ঘর, বড় পরিবর্তন বিধানসভাতেও
তবে X প্রোফাইলে নিজের মুখ্যমন্ত্রী পরিচয়ের আগে ‘প্রাক্তন’ না লেখায় নেটিজেনদের একাংশের রোষে পড়েছেন মমতা। সরাসরি X কর্ণধার ইলন মাস্কের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন কেউ কেউ। মমতার বায়ো পাল্টে দেওয়ার দাবি উঠল যেমন, তেমনই তাঁর অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করার দাবিও উঠল।
২০২৬ সালর বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জয়ী হয়েছে ৮০ আসনে। তবে এই ফলাফল মানতে নারাজ মমতা। ফলঘোষণার একদিন পরই সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচনের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ভোট লুঠ করেছে, জোর করে তাঁদের হারানো হয়েছে বলে দাবি করেন। মমতা জানান, তাঁরা হারেননি, জোর করে হারানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যপালের কাছে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফাও দেননি। মমতার যুক্তি ছিল, তিনি জয়ী হলেও লোকভবনে যেতেন না।। আর জোর করে হারানো হয়েছে যেখানে, সেখানে ইস্তফা দিতে যাবেন না তিনি। তবে এদিন শুভেন্দু শপথ নেওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়া বায়ো বদলে ফেলেন মমতা। সরাসরি 'প্রাক্তন' না লিখলেও, যেভাবে ১৫, ১৬ এবং ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন, তা পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
