সমীরণ পাল : ভোটপর্ব শেষ হতেই বহিষ্কৃত এক তৃণমূল নেতাকে ফের দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক ( Partha Bhowmick) । তৃণমূল দলে ফেরালো উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে। কয়েকদিন আগেই তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

Continues below advertisement

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে খুনের কোনও অভিযোগ নেই। সেই কারণেই তাঁকে পুনরায় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ ভৌমিক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখেই সংগঠনের তরফে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভোট মিটতেই এই সিদ্ধান্তের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিরোধী শিবিরের তরফে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে একটি বচসার ঘটনা ঘটে । সেখানে প্রতিবাদী এক বৃদ্ধকে মারধর করে খুনের অভিযোগ ওঠে ওই এলাকারই কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা। তুলসী অধিকারী নামে এক অশীতিপর বৃদ্ধ মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে। তাঁকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। সে-সময় ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক এই ঘটনার নিন্দাও করেন। তবে ভোট মিটতেই তাঁকে আবার দলে ফেরাল ঘাসফুল শিবির।  

Continues below advertisement

আরও পড়ুন :  'একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুণ্ডা' কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শাণিত আক্রমণ, উদয়নারায়ণপুরের বুথে বৃদ্ধ-মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক প্রেক্ষাপট  গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মণিরামপুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদ করতেই হামলার মুখে পড়তে হয় কয়েকজনকে। জানা যায়, ওই নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন এলাকার কয়েকজন যুবক। তাঁদের দাবি ছিল, নির্মাণটি বেআইনি ভাবে করা হচ্ছিল। অভিযোগ, সেই প্রতিবাদের জেরেই শুরু হয় বচসা ও উত্তেজনা। এরপর প্রতিবাদীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।  ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বাবা,  তুলসী অধিকারী। পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বৃদ্ধ তুলসী অধিকারীকে মারধর করেন। এরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে মারা যান তিনি।