কলকাতা: ব্রিগেডের পর, রবিবার কোচবিহারের সভা থেকেও হিসেব নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরদিনই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, একটা দুটো কেস দেব, আপনাদের ঝুলিয়ে দেব। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া হুঁশিয়ারির পাল্টা হুঙ্কার দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এরইসঙ্গে আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সংযোজন, ফল বেরনোর পর সুদে-আসলে জবাব দেব। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন চলছে রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি-হুঙ্কারের লড়াই। 

Continues below advertisement

শব্দেই জব্দ। বাছাই করা শব্দ যার, প্রচারে সিকন্দর সে-ই। একবার নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তার পাল্টা হুঙ্কার দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কোচবিহারের সভা থেকে রবিবারও বেছে বেছে হিসেব নেওয়ার কথা শোনা গেছে নরেন্দ্র মোদির ভাষণে। রবিবার কোচবিহারের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ''আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, এবার ভোটের পরে এদের (তৃণমূলের) পাপের পূর্ণ হিসেব হবে, বেছে বেছে হিসেব করা হবে। ৪ মের পরে আইন তার কাজ করবে। যতবড়ই গুন্ডা হোক, এবার ন্যায় হবে।''

পালটা সোমবার দিনের প্রথম সভা থেকেই পাল্টা হুঙ্কার দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, ''মাথায় রেখে দেবেন, বেশি কথা বলবেন না। একটা দুটো কেস দেব, আপনাদের ঝুলিয়ে দেব। গণতন্ত্রের কাঠগড়ায়। আপনারা বুঝবেন নিজেরা কী করেছেন।'' এর আগে ভোট ঘোষণার আগে ব্রিগেডের সভায় বেছে বেছে শব্দবন্ধ শোনা গেছিল প্রধানমন্ত্রীর মুখে। তিনি বলেছিলেন, ''বাংলায় মহাজঙ্গলরাজ এনেছিল যারা তাদের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। যারা আইন ভাঙবে, যারা অত্য়াচার করবে, তৃণমূলের কোনও অত্য়াচারীকে ছাড়া হবে না। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।''

Continues below advertisement

এদিন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, ''মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন যখন ব্রিগেডে একপ্রকার পরিষ্কার করে হিসাবের কথা বলে গেছেন। হিসাব শুরু হবে, প্রধানমন্ত্রী নিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।''

এরই মাঝে আবার সোমবার জলঙ্গির প্রচার থেকে হুঙ্কার ছুড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও! তিনি বলেন, ''যারা দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছে, হম্বিতম্বি করে বেড়াচ্ছে... আর ২৮ দিন। দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট হলেও সহ্য করুন আর ২৮টা দিন। ফল ঘোষণা অবধি দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট হলেও আপনারা অপেক্ষা করুন। ফল বেরনোর পর সুদে-আসলে জবাব দেব, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। সুদে-আসলে জবাব দেব।''

শেষ অবধি ভোটাররা কী বললেন, তা বোঝা যাবে ৪ মে। তার আগে শব্দ দিয়েই আপাতত আক্রণ প্রতি আক্রমণের লড়াই চলছে।