কলকাতা: ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর সকলের নজরে। সেই কেন্দ্রেই প্রথম দফা ভোটের আগের রাত থেকেই অশান্তি সূত্রপাত। ভোটের দিনও বাদ গেল না। তবে তা নওদা, ডোমকল এই এলাকায় এদিন সংবাদ শিরোনামে থেকেছে সকাল থেকেই। শিরোনামে থেকেছেন হুমায়ুন কবীরও। যদিও অন্য সুর বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর গলায়। 

Continues below advertisement

বহরমপুরে এদিন সকাল ১০.৩০টা নাগাদ ভোট দেন অধীর চৌধুরী। ভোট দিয়ে বেরিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, 'এখনও পর্যন্ত ভোট ভালই হচ্ছে। সব কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্টরা বসতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করেছে তা সন্তোষজনক'। জেলা রাজনীতিতে রবিনহুড বলে পরিচিত অধীর আত্মবিশ্বাসী হলেও তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূল এবারেও তাঁকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ার মেজাজে নেই।

আজ যেভাবে অশান্ত হল মুর্শিদাবাদ

Continues below advertisement

তৃণমূল প্রার্থীকে বোমা ছোঁড়ার অভিযোগ। ভোটের আগের রাতে নওদার তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মুমতাজকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠল হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিরুদ্ধে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এক কর্মীর বাড়ি থেকে ফিরছিলেন সাহিনা মুমতাজ। অভিযোগ, সেইসময়, শিবনগর প্রাথমিক স্কুলের বুথের কাছেতাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, আমার লোককে কেউ পাথর ছুড়লে তাকে কি রসগোল্লা ছুড়বে? একটা ঢিল ছুড়লে দুটো পাটকেল খেতে হবে।

সিপিএমের বাড়িতে হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে ডোমকলের রায়পুর গ্রামে, সিপিএম কর্মী মহবুল আনসারির বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সিপিএম কর্মীর ছেলে রাকিবুল আনসারির হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়েছে। আক্রান্ত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে ভর্তি করা হয় ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ছেলে রাকিবুলকে। বাবা-ছেলে দুজনেই ২১৭ নম্বর বুথের ভোটার। এই ঘটনায় আল আমিন মণ্ডল নামে এক তৃণমূল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনিও।

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। ডোমকলের ২১৭ নম্বর বুথ এলাকায় পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। গতকাল রাতে, এখানেই সিপিএম কর্মীদের ওপরে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ভয় দেখানো হচ্ছে ভোটারদের। এখনও পর্যন্ত এলাকায় নেই কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এখনও পর্যন্ত বুথ পর্যন্তও পৌঁছতে পারেননি কোনও ভোটার।