সমীরণ পাল, বরানগর: প্রচারের শেষ লগ্নেও বরানগরে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে গন্ডগোল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিজেপি প্রার্থী সজল সভা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলল তৃণমূল। পাল্টা তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন সজল ঘোষ। প্রচারের শেষ লগ্নেও বরানগরে তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথ। একে অপরকে লক্ষ্য করে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান..ছড়াল ব্য়াপক উত্তেজনা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সোমবার বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লি এলাকায় শেষ প্রচার ছিল বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের। বিকেলে সেখানে তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একটি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সভা শেষ করেননি সজল ঘোষ।

Continues below advertisement

বরানগর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার বলছেন, 'সজলবাবুর এখানে মিটিং চলছে। তাতে আমাদের তো অসুবিধা নেই। পারমিশনটা ২ টো অবধি। আমাদের মিছিলের টাইম সাড়ে ৪টে থেকে ৫টা।'

পালটা বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, 'আমাদের এখানে পারমিশন ছিল। পারমিশন থাকা সত্বেও এরা ঘণ্টা ২-৩ ধরে আমায় ডিস্টার্ব করে যাচ্ছে। এই তৃণমূল, এখানকার কাউন্সিলর।' এই নিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়।

Continues below advertisement

শান্তনু মজুমদার আরও বলেছেন, 'বলল টাইম পেরিয়ে গেলেও আমার নাম সজল, গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডটা চেক করে নিবি। আমার নামও মেজো। উনি আমাকে যেমন জবাব দেবেন আমি তেমন উত্তর দেব।' পালটা বরানগরের বিজেপি প্রার্থী বলছেন, 'টাইম পেরোলে পুলিশ আসবে। ওরা কে? ওরা তো ৩ ঘণ্টা ধরে আমাকে করতে দেয়নি।' সব মিলিয়ে, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে শেষ প্রচার। গোটা পর্ব জুড়ে প্রচারের দ্বৈরথ নিয়ে শিরোনামে থাকল বরানগর।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে বাড়ছে হুমকি-হুঁশিয়ারির রাজনীতি। এবার নারায়ণপুর থানার IC-কে শাসালেন রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এলাকার ২ তৃণমূল কর্মীকে পুলিশের পাকড়াও করা ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। খবর পেয়ে নারায়ণপুর থানায় চড়াও হন তাপস চট্টোপাধ্যায়। থানার IC-কে শাসাতেও দেখা যায় তাঁকে। ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। পাশাপাশি পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগও করেন রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক। এবিষয়ে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে পানিহাটির তৃণমূল কাউন্সিলরকে। ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।