হাড়োয়া: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে বিরল ছবি ধরা পড়ল হাড়োয়ায়। যেখানে তৃণমূলের কর্মীদের তাড়া করছেন ISF কর্মীরা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে আইএসএফ কর্মীরা বারবার দৌড়োতে দৌড়োতে বলছেন যে মস্তানগিরি করছে.. অর্থাৎ শাসকদের দিকেই অভিযোগ তুলছে ISF কর্মীরা।
জানা গিয়েছে শাসনতলা এলাকা, যেখানে বাম আমলে সিপিএমের দাপট। বিগত নির্বাচনেও তৃণমূলের দাপট দেখা গিয়েছে। এদিন কিন্তু উল্টোটা হল। দাপটে দেখাতে গিয়ে তৃণমূল রীতিমত তাড়া খেয়েছে ISF সমর্থকদের কাছে। এদিন সকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা হুমকি দিচ্ছিল যে যাতে তাঁরা ভোট দিতে না পারেন। এখানে হাড়োয়া বিধানসভার দাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগাছি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের কর্মীদের হুমকি দেওয়ার খবর পেতেই আইএসএফ কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয় ও তারা সবাই মিলে তৃণমূলের সমর্থকদের ধাওয়া করে গ্রামছাড়া করে।
তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁরা কোনওভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করেননি। ISF নাকি ভুয়ো অভিযোগ আনছেন। কিন্তু ISF পুরোপুরি অভিযোগ জানিয়েছে যে তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। পুলিশ এসে ঘটনার সামাল দেন।
এদিন সকালেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি এজেন্টকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল নদিয়ার চাপড়ায়। চাপড়ায় বিজেপির এজেন্টকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চাপড়ার ৫৩ নম্বর বুথের বিজেপি এজেন্টকে মারধর করা হয়। বিজেপি এজেন্ট মোশারম মির জানিয়েছেন, 'লাঠি দিয়ে মেরেছে, আমাকে রডের বাড়ি মারল। বন্দুক দেখিয়ে রডের বাড়ি মেরেছে। মফিদুল, আরজান, জানে মোল্লা, ফয়েদুল বিশ্বাস আর ওর দলবল যারা ছিল সবাই। এরা তৃণমূলের গুন্ডা। এদের ভয়ে গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে হুমকি দিচ্ছে। ভোট দিতে দেব না। তৃণমূলকে ভোট দিতে হবে। নয়তো ভোট দিতে যাবে না।" সেখানকার বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকার জানিয়েছেন, 'কালকে রাত থেকে ওখানে হুমকি চলছে। মফিজুলের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা একেবারে লোকজন সহ ওখানে মারধর করে, পিটিয়ে মারে, বন্দুক নিয়ে। তারা ওখানে বন্দুক নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করছে। যত দাগি আছে, এই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সব ক্রিমিনালদের নিয়ে রাজনীতি করছে।'
এছাড়া ক্যানিং পূর্বেও ভোটারদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের দিকে। সেখানে এক বিজেপি কর্মী বলছিলেন, 'তৃণমূল নামক গুন্ডাদের অত্য়াচারে আমি বিগত কয়েক বছর ধরে আমি ভোট দিতে পারিনি। আমাকে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী এসে ঘরে হুমকি দিয়ে গেছে, যে, আপনি ভোটটা দেবেন না। আধার কার্ডটা জমা রাখবেন। আইকার্ডটা জমা রাখবেন আমাদের কাছে। আমার পরিবারকে নিয়ে হুমকি, মারধরের অত্য়াচারের হুমকি দিয়ে গেছে।'
