রুমা পাল, শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা: আগামী সোমবার প্রকাশ হতে চলেছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট। খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে। আর সূত্রের খবর, প্রথম দফার অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় বাদ পড়তে পারে প্রায় ১০ লক্ষ নাম। নাম বাদ নিয়ে আপত্তি বা কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য ২৩ জেলায় তৈরি হয়েছে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল। জেলাশাসক, SP, CP-দের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি, সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে হারাব..", এবার মমতাকে একেবারে সরাসরি চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু অধিকারীর

Continues below advertisement

রাজ্যে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। ভোটযুদ্ধের আগে চলছে বাগ্‍যুদ্ধ, দেওয়াল দখলের লড়াই। মিটিং-মিছিল-সমাবেশে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি SIR!এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম 'বিবেচনাধীন'। শেষমেশ কত ভোটারের নাম বাদ পড়বে? ভোটের আগে নিষ্পত্তি না হলে কী হবে 'বিবেচনাধীন' ভোটারদের? তারা কি ভোট দিতে পারবেন? কবে বেরোবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সোমবার প্রকাশ হতে চলেছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট।দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী শুক্রবার। তারপর প্রতি শুক্রবার ধাপে ধাপে পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হবে।পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ২৩ জেলার জন্য ১৯ টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাতিলের বিষয়ে জুডিশিয়াল আধিকারিকরা যে নির্দেশ দেবেন, তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন ভোটাররা।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক  মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট যখন আমরা পাব, আমরা পাবলিশ করে দেব।   ট্রাইব্যুনালের প্রসঙ্গ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন 'বিবেচনাধীন' থাকা ভোটারের মধ্য়ে, এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার জনের নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও প্রায় ৩৩ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়নি। সূত্রের খবর, প্রথম দফার অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় বাদ পড়তে পারে প্রায় ১০ লক্ষ নাম। 

তৃণমূলনেত্রী  মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছেন, আমি যতদূর শুনেছি, ২২ লক্ষ, ৬০ লক্ষের মধ্য়ে করা হয়েছে। তার মধ্য়ে ১০ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা আমি শুনেছি। বেশিরভাগ বাদ গেছে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর থেকে। বিশেষত একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে সব জায়গায় ভিড় হতে পারে, সেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদেরকে।

অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটের আগে নতুন ঠিকানা পেল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতর।বিবাদীবাগের ২১ নম্বর NS রোডের শতাব্দী প্রাচীন বামার অ্যান্ড লরি ভবন ছেড়ে CEO দফতর গেল, ১৩ নং স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার বিল্ডিং-এ। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, ছোট জায়গা ছিল, অনেক সুবিধা ছিল...প্রশাসনিক মহলের মতে, বর্তমান দফতরের জায়গা কাজের তুলনায় ছোট হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি, SIR প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে বিক্ষোভ, অবস্থান লেগেই ছিল। শুধু রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, দফতরের সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় বিএলও–দের একাংশ। দফতরের আধিকারিক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশন। পর পর দু’বার কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠিও দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, তারপরই উপযুক্ত এবং নিরাপদ জায়গায় অফিস সরনোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন!