বাপন সাঁতরা, অমিতাভ রথ ও মুন্না আগরওয়াল : দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট। জনসংযোগে ঝাঁপাচ্ছে সব দল। প্রচারে নজর টানতে কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করছেন, কেউ মাথায় কাঠ বইছেন, আবার কেউ লাঙল টানছেন।
কথায় আছে, ভোট বড় বালাই। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মন টানতে কেউ সটান রান্নাঘরে ঢুকে পড়ছেন। কেউ রাস্তা তৈরিতে হাত লাগাচ্ছেন, আবার কেউ চটি জুতো খুলে চাষের জমিতে নেমে পড়ছেন, কেউ আবার ভোটারের দাড়ি পর্যন্ত কেটে দিচ্ছেন। সোমবার প্রচারে বেরিয়ে এভাবেই মাথায় কাঠ নিয়ে এক মহিলা ভোটারকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেলেন গোপীবল্লভপুরের বিজেপি প্রার্থী। গোপীবল্লভপুরের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতো বললেন, "আমি দেখলাম রাস্তায়। প্রচারে এসেছিলাম মানুষের কাছে। মাসিমাকে ভোটও দিতে বললাম। কিন্তু আমি তো ছেলের মতো তাঁর। তাঁর ভারটা একটু লাঘব করার চেষ্টা... ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিলাম।"
আর এবার পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী জনসংযোগ সারতে রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন। কোথাও মশলা বাঁটলেন, কোথাও খুন্তি নাড়লেন। কখনও বাচ্চাদের চকোলেট বিলি করলেন, আবার কখনও মন্দিরে মাথা ঠুকলেন। পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি বলেন, "গ্যাস পাচ্ছে না, দাম বেড়েছে। আজকে সেই বাড়িতে গিয়ে মায়েদের সঙ্গে হাত লাগালাম। একটু রান্না করলাম। তার সঙ্গে একটা মা দেখছি পেঁয়াজ বাঁটছে। আমরা একটু পেঁয়াজটা বেঁটে দিলাম।"
পিছিয়ে নেই বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষও। পুরশুড়ায় জমিতে নেমে লাঙল টানলেন তিনি। পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, "আমি মাঠে নাটক করার জন্য লাঙল করতে যাইনি। একটা কৃষক লাঙল নিয়ে যাচ্ছিল আমি তার হাত থেকে নিয়ে দেখলাম ওটাতে কতটা কষ্ট। ওই রুটি করা, ওসব নাটক।"
দক্ষিণ দিনাজপুরের মাদারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার আবার রাস্তা তৈরিতে হাত লাগালেন। সাইকেলে চড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরলেন। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার বলেন, "যা অনুন্নয়নের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের যা করুণ দশা, তাতে আমাকে চারচাকা ছেড়ে কখনও মোটর সাইকেলে চলতে হচ্ছে, কখনও সাইকেলে, কখনও পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে। রাস্তায় দেখতে পেলাম গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্য়োগে ঢালাই রাস্তা করছে। সেই ঢালাই রাস্তায় নিজেও একটু হাত লাগালাম।" আরামবাগের মায়াপুরে প্রচারে গিয়ে ধান জমি থেকে আগাছা তুলতে দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগকে। Bengal Election 2026
