উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দমদমে প্রার্থী হিসেবে দীপ্সিতা ধরের নাম ঘোষণা করেছে সিপিএম। এর আগেও লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর লোকসভা থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে লড়ার আগে দীপ্সিতা বলছেন, 'উত্তর দমদম লাল ঝাণ্ডার ছিল, উত্তর দমদম আগামী দিনেও লাল ঝাণ্ডারই থাকবে।' 

Continues below advertisement

কিন্তু বালির দীপ্সিতা ধর উত্তর দমদমে কেন? 

জবাবে প্রার্থী বলেছেন, 'সে তো ভবানীপুরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন। এখন শুনলাম নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীও ভবানীপুরে এসেছেন। অত বড় বড় নেতারা যদি রাজ্য ভ্রমণ করতে পারেন, তাহলে আমরা তো ছোট মানুষ, সাধারণ মানুষ, আমরা এটুকু বোধহয় করতেই পারি।'

Continues below advertisement

দীপ্সিতাকে কেন উত্তর দমদমের মানুষ ভোট দেবেন? 

প্রার্থী বলছেন, 'মানুষ আমাদের ভোট দেবেন। লাল ঝাণ্ডায় ভোট দেবেন। মানুষ দেখেছেন তৃণমূল এবং বিজেপির সরকার, একটা রাজ্যে আছে, একটা কেন্দ্রে, এই দুটো সরকারের নেতা-নেত্রীরাই কেউ আমাদের কথা বলছেন না। আমাদের চাকরির কথা কেউ বলছেন না। বাচ্চাদের স্কুল শুরু হয়ে যাচ্ছে, তার কথা বলছেন না। এই এলাকা, বিগত ৬-৭ দিন ধরে তাঁরা জল পাননি, অথচ এখানকার বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী। আমাদের যে সাধারণ চাহিদা সেই জল নিয়ে কথা হচ্ছে না, অথচ মন্দির নিয়ে কথা হচ্ছে, মসজিদ নিয়ে কথা হচ্ছে, বিভিন্ন নেতা-নেত্রীরা দলবদল করছেন, তা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমরা চাই রাজনীতিতে রাজনীতির কথা ফিরে আসুক। ব্রেড অ্যান্ড বাটার ইস্যু, আমাদের বেঁচে থাকার যে মূল কথাগুলো সেগুলো ফিরে আসুক। আমি মনে করি এই অঞ্চলের মানুষ বেঁচে থাকতে চান। ভাল ভাবে বেঁচে থাকতে চান। তাই তাঁরা লাল ঝাণ্ডার সঙ্গে থাকবেন।'

কী প্রতিশ্রুতি দেবেন এলাকার মানুষকে? 

আমরা কোনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। আমরা বলছি, আপনাদের যা দাবি সেটাই আমাদের ম্যানিফেস্টো। এখানকার মানুষ যদি বলেন তাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি রাস্তা সারানো, তাহলে আমাদের প্রতিশ্রুতিতে এক নম্বরে থাকবে রাস্তা সারানো। এখানকার মানুষ যদি বলেন হাসপাতালগুলোর অবস্থা প্রচণ্ড রকম খারাপ। খালি রেফারের পর রেফার হয়। চিকিৎসা পাওয়া যায় না। তাঁরা যদি বলেন সেটা তাঁদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি, আমরা সেটা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে এক নম্বরে রাখব। এখানকার মানুষ যদি বলেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় দুঃখ, যন্ত্রণার জায়গায়, তাঁদের পাশের বাড়ির মেয়ে তিলোত্তমা খুন হয়েছেন, ধর্ষণ হয়েছেন, ২ বছর হতে চলল বিচার পাননি, আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে সেটাই এক নম্বরে রাখব।' 

যদিও নাম ঘোষণা হয়নি, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে কী ভাবছেন দীপ্সিতা? 

তৃণমূল-বিজেপি একসঙ্গে লড়বে তিলোত্তমার খুনিদের বাঁচানোর জন্য, তৃণমূল-বিজেপি একসঙ্গে লড়বে যাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা কোটি কোটি টাকা খাওয়ার পরেও জেলের বাইরে থাকেন, তৃণমূল-বিজেপি একসঙ্গে লড়বে যাতে পশ্চিমবঙ্গে মন্দির-মসজিদ নিয়ে রাজনীতি হয়, আর এদের দু'জনের বিরুদ্ধে লাল ঝাণ্ডা সাধারণ খেটে খাওয়া আমার বয়সী ছেলেমেয়েদের কথা বলবে।