সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্ত্রাসমুক্ত ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) করতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন (District Administration)। জেলায় জেলায় ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এছাড়াও চলছে এরিয়া ডমিনেটিং। তবে ভোটগ্রহণের দু'দিন আগে থেকেই কার্যত ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের! জেলা প্রশাসনের নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে। আসন্ন নির্বাচনে সন্ত্রাসমুক্ত ও স্বচ্ছ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতেই এমন একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিল জেলা। ইতিমধ্যেই জেলায় পৌঁছেছে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এদিন জেলা শাসকের দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক শিল্পা গৌরী সারিয়া সহ বিধাননগর, বারাসাত, ব্যারাকপুর ও বনগাঁর পুলিশ সুপাররা উপস্থিত থেকে ভোট সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ প্রতিনিধিরাও।

Continues below advertisement

এখান থেকেই জেলাশাসক স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনওভাবেই ছাপ্পা ভোট বা ভোটে কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী কোনও সরকারি কর্মী ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ৮৫ বছরের বেশি ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়েও ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। এই সব বুথে ও তার আশপাশে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং থাকবে নজরদারি ক্যামেরা। অতিরিক্ত স্পর্শকাতর বুথে কুইক রেসপন্স টিমের পাশাপাশি তিনটি পর্যন্ত ক্যামেরা বসানো হবে। এছাড়াও, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়েছে।

ভোটের আগেই আটকে দেওয়া হবে সীমান্ত এলাকা। ভোটের দু’দিন আগে থেকে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কোনওভাবেই কাজে লাগানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে। বারাসাত থানা এলাকায় এক সিভিক পুলিশের রাজ্য পুলিশের পোশাক পরা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে বারাসাত জেলা পুলিশ। জেলা নির্বাচন দফতর সূত্রে খবর, জেলায় এক হাজারেরও বেশি মহিলা পরিচালিত বুথ থাকছে এবারের নির্বাচনে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ যানও ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে, প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা হবে। সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

Continues below advertisement