ফলতা: ভুরিভুরি কারচুপি ও বেনিয়মের অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় বাতিল করা হল ভোট। ২৮৫টি বুথের সবকটিতেই পুনর্নির্বাচন হবে ২১ মে। ফল প্রকাশ হবে ২৪ তারিখ। বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবার ফলতায় রি পোল নিয়ে মুখ খুললেন শ্যামপুকুরের এবারের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। তিনি বলেন, 'অত্যন্ত কড়াভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ফলতার রি পোল নিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে আসতে বলেছেন তিনি। এটা চ্যালেঞ্জ। এই অপমান বারবার করা হচ্ছে। বাংলাকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। প্রায় ২ লক্ষর বেশি আর্মি যে এল, তাহলে কেন ফলতায় এমনটা হল। যত রিপোলই করুন না কেন, তৃণমূল জিতবেই।'
দিলীপ ঘোষ এই ইস্যুতে বলেছেন, 'ফলতার দিকে সবারই নজর ছিল। সবার মনেই প্রশ্ন ছিল। ফলতা ব্ল্যাক স্পট। এত কড়াকড়ি করার পরও লোককে চমকানো ধমকানো হচ্ছে। মানুষ রাস্তায় এসে প্রতিবাদ করেছে, তাঁদের ভোট দেওয়া হচ্ছে না, ভয় দেখানো হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই এক একটা বুথের হিসেব দিয়েছে, কোথায় কেন রি পোল হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। বাংলার মানুষ বহুদিন এগুলো সহ্য করেছে। ফলতার মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছিলেন, 'বিরোধীপক্ষের প্রতীক চিহ্নের উপরে, প্রার্থীর উপরে সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এদের নির্লজ্জতার সীমা নেই, তারপরে এরা মুখ খুলছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র অর্থাৎ ডায়মন্ড হারবারে এটা বারবার হচ্ছে, গত লোকসভা ভোটে হয়েছে, সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে না তো কী হবে?'
উল্লেখ্য, ফলতা নিয়ে বিজেপির অভিযোগের পর তৎপর হন খোদ মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর নির্দেশেই ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে যান নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। জেনারেল অবজার্ভার ও অন্যান্য অফিসাররা মিলে স্ক্রুটিনি করেন। জমা পড়ে রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর, ফলতায় পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে জানানো হল, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৬০টি বুথে ভোট চলাকালীন বেনিয়ম ধরা পড়েছে।
CCTV ফুটেজে অনেক বুথে একসঙ্গে অবাঞ্ছিত একাধিক মানুষকে একসঙ্গে ঢুকতে ও বেরতে দেখা গেছে। আবার বহু বুথে CCTV ফুটেজও মেলেনি। ১৩টি বুথের ফুটেজে ব্যাপক গরমিল দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটেই গোটা ফলতা কেন্দ্রে ফের ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
