বাপন সাঁতরা, হুগলি: গতকাল বিজেপির প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনার পর আজ থমথমে গোঘাটের বর্মা। গ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাড়ার অলিগলিতে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও পুলিশ কর্মীরা। যদিও গতকাল রাতেই হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রাতে ধরপাকড় শুরু হয়। মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিজেপির প্রচার মিছিলে উত্তেজনার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে গোঘাটে তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ৩ বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোটের আগে নতুন করে অশান্তির ঘটনা না ঘটে তার জন্য তৎপর রয়েছে পুলিশ। গোটা কার্যত শুনশান। রাস্তায় প্রয়োজন ছাড়া লোকজন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

Continues below advertisement

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে, বিজেপির প্রচার ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোঘাটের বর্মা এলাকা। এদিন সেখানে প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার। সেই সময়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। বিজেপি প্রার্থী বলেছিলেন, 'আমরা নির্দিষ্ট রুটে প্রচার করছি। আমাদের ছেলেরা যখন বর্মা গ্রামে ঢোকে, এখানকার জেহাদিরা, তৃণমূলের জেহাদি যারা আছে, সেই জেহাদিগুলো হামলা করে। আমাদের সাত থেকে আটটা চার চাকাকে একেবারে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।'  পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। বিজেপির জখম কর্মী-সমর্থকদের, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে গোঘাটের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্য়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। অভিযোগ, তখনই তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয় বিজেপি। পাথর ছুড়ে, লাঠির বাড়ি মেরে ভাঙা হয় গাড়ির কাচ।

ভোটের আগে যতই নির্বাচন কমিশনের তরফে শান্তির বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তবুও অশান্তির আঁচ যেন বারবার দেখা যাচ্ছে। প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর সুষ্ঠুভাবে হলেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন জায়গা থেকে হিংসার আঁচ মিলেছে। ভোটের আগে বার উত্তপ্ত হুগলির বলাগড়ের সোমরা বালিগুড়ি। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সঞ্জিত সরকারের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকার। বিজেপির অভিযোগ, সোমবার রাতে সোমরা বালিগুড়িতে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় তৃণমূলের লোকজন হামলা চালায় তাঁর উপর। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। উল্টে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের আগে টাকা বিলির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

Continues below advertisement