সুনীত হালদার, হাওড়া: ভোট বড় বালাই। যেভাবেই হোক জয় করতে হবে ভোটারের মন। তাই এই নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে চূড়ান্ত রেষারেষি। আর এবার ভোট ময়দানে দেখা গেল প্রার্থী মাথায় আলুর বস্তা বইছেন আবার কখনো মিস্ত্রির হাত থেকে রং তুলি কেড়ে দেওয়াল রং করছেন। এবারে ভোটের ময়দানে অভিনব রাজনৈতিক প্রচারের সাক্ষী থাকছে বাংলা। প্রার্থীরা কেউ সাধারণ মানুষের দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার গৃহস্থের হেঁশেলে ঢুকে রান্না করে দিচ্ছেন। আর এই আবহে এবার সরাসরি গৃহস্থের বাড়ি রং করতে দেখা গেল উদয়নারায়ণপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রভাকর পন্ডিতকে। দিন কয়েক আগে প্রচারে গিয়ে তিনি এই কান্ড করেন। সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে জনসংযোগ করছিলেন প্রভাকর। সেইসময় একটি বাড়িতে বাঁশের ভারা বেঁধে রং করছিলেন রং মিস্ত্রিরা। প্রচারের মাঝেই সটান বাঁশের ভারায় উঠে মিস্ত্রিদের সাথে তুলি হাতে বাড়ি রং করতে থাকেন প্রভাকর। আবার দিন কয়েক আগে  কৃষি অধ্যুষিত উদয়নারায়ণপুরে জমিতে আলুর বস্তা বইতে দেখা গিয়েছিল তাকে। আলু চাষীরা দাম পাচ্ছেন না সে নিয়ে তাকে বলতে দেখা যায়।

Continues below advertisement

তবে প্রভাকরকে উন্মাদ বলে কটাক্ষ করেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তথা উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীর কুমার পাঁজা। তিনি বলেন, বিজেপি প্রার্থী উন্মাদ। তার কথার জবাব দেবেন না। উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির লোক নেই, প্রচার করতে পারছেনা। তাই এই ধরনের পাগলামি করে প্রচারের আলোয় ভেসে থাকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

কিছুদিন আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হাওড়ার ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী। হাওড়ায় মাংস বিক্রেতাকে 'রোহিঙ্গা' ও 'জেহাদি' বলে আক্রমণ করে ব্যবসা গোটাতে বাধ্য করলেন ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী। অকারণে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। এদেশেরই ভোটার তিনি, পাল্টা দাবি করেছেন লাভপুরের বাসিন্দা। রোহিঙ্গা ছাড়া বিজেপির মুখে কথা নেই বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। উল্লেখ্য, কখনও বললেন 'রোহিঙ্গা'আবার কখনও 'জেহাদি' বলে দাগিয়ে দিলেন! একজন মুসলিম মাংস বিক্রেতাকে এভাবে বাছা বাছা শব্দে আক্রমণ করে বিতর্কে জড়ালেন ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা।

Continues below advertisement

এছাড়াও বিজেপি ও তৃণমূলের বিভিন্ন প্রার্থী এবার প্রচারে বেরিয়ে নানারকম কাজ করেছেন। কেউ রান্নাঘরে ঢুকে রুটি বানিয়েছেন তো কেউ আবার হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে পড়েছেন।