সমীরণ পাল: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তাই ভোটের প্রচারে চমক তো রাখতেই হবে। সেই চমকই দেখা গেল এবার জগদ্দল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের প্রচারে। আর প্রচারে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় ঢাল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকেই তুলে ধরা হল। এদিন প্রচারে দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে রাস্তায় নামেন সোমনাথ শ্যাম।

Continues below advertisement

এদিন প্রচারে বেরিয়ে সোমনাথ শ্যাম বলেন, ''আমি পাঁচ বছর ধরে মানুষের সেবা করেছি। মানুষের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। আমার বিধায়ক হিসেবে যতটুকু এক্তিয়ার, তার বাইরে গিয়েও চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থেকে সেবা করার। কিছু অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে। আমি একটি আইটিআই কলেজ করার পরিকল্পনা করেছিলাম আগেই। কিন্তু নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় আমরা ওটা শিলান্যাস করতে পারিনি। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ওই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবই। আমি আগেই বলেছিলাম যে আমি একটি কলেজ করব, কিন্তু সঠিক জমি না পাওয়ায় তা করে তুলতে পারিনি। আমি নার্সিং কলেজও করার পরিকল্পনা করছি।''

জগদ্দল বিধানসভা ও এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত এলাকাকে আরও সুন্দর করে তোলাই লক্ষ্য সোমনাথ শ্যামের। তিনি বলেন, ''সুন্দরীকরণ বা বিউটিফিকেশনের কাজ থেকে আমরা অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছি। জগদ্দল বিধানসভাকে মর্ডান বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। মানুষ যেন সব পরিষেবা পায়, যখন তাঁরা আমাকে খুঁজবে, তখনই যেন আমাকে পায় কাছে, এটাই চাইব।''

Continues below advertisement

নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সব প্রার্থীকেই নানা ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। কখনও জল, কখনও বিদ্য়ুৎ তো কখনও রাস্তাঘাট, নিকাষি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। সোমনাথ শ্যাম অবশ্য তাঁর কেন্দ্র নিয়ে বলছেন, ''জলের আমাদের শহরাঞ্চলে কোনও জলের সমস্যা নেই। বিদ্যুতেরও ঘাটতি সেভাবে নেই। গ্রামাঞ্চলেও বিদ্যুতের কোনও সমস্য়া নেই। জল জীবন মিশনের কেন্দ্র থেকে যে টাকা পাওয়ার কথা, তা না দেওয়ায় অনেক জায়গা প্রজেক্টগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবুও আমরা গ্রামাঞ্চলে জল বসানোর চেষ্টা করছি।''

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে যাওয়ার পরই প্রত্যেক দলই নির্বাচনী প্রচারে নেমে গিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা তাঁদের কেন্দ্রে রাজ্য সরকারের তরফে যে যে সুবিধে দেওয়া হচ্ছে, যেমন কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সেগুলোকেই প্রচারে ঢাল করতে চাইছেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপও দেগেছেন সবাই। গতকালই দেখা গিয়েছিল কামারহাটিতে প্রচারে মদন মিত্র গ্যাস সঙ্কট ইস্যুকে তুলে ধরেছিলেন।