জলপাইগুড়ি: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতও রক্ত ঝড়েছে বিভিন্ন জায়গায়। জলপাইগুড়িতে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা মহামায়া পাড়া সুরেন্দ্র স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তুলকালাম। জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৮ ও ১২৯ নম্বর বুথে সকাল থেকেই গণ্ডগোলের আঁচ ছিল সকাল থেকে। এদিন প্রথমে বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল যে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ছাপ্পা ভোট করা হচ্ছিল। আবার তৃণমূলের তরফেও একই অভিযোগ জানানো হয় যে বিজেপির ২ কর্মী এসে ছাপ্পা ভোট চালাচ্ছিল। 

Continues below advertisement

এই বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর সেন্ট্রাল ফোর্স আসে সেখানে। জানা গিয়েছে যে বিজেপি কর্মীদের কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ও বিক্ষোভ তাঁদের পুলিশের তরফে সেফ কাস্টেডিকে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে অবজার্ভার এসেছেন এখানে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। চারপাশটা বেশ উত্তেজিত। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটে অশান্তি, ঝড়েছে রক্ত! এছাড়া দুবরাজপুরে আক্রান্ত হতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। সেখানে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ৬ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান আহত হয়েছে। কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে মারধর করা হয়েছে। তার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ জনকে। নওদাতে হুমায়ুন কবীরের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তৃণমূল-AJUP সংঘর্ষ হয়েছে। অন্য়দিকে লাভপুরেও মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের। মুরারইতে কংগ্রেস-তৃণমূল সংঘর্ষে মাথা ফাটল ২ জনের। হরিশ্চন্দ্রপুরেও ছবিটা একই রকম। এখানে অবশ্য তৃণমূল বনাম তৃণমূল দলীয় ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর। কোতুলপুরে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, ভোটারদের মারধরের অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। চোপড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁচলে বিজেপির পোলিং এজেন্টের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘাটালে মারিচা গ্রামে 'আক্রান্ত' বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। সিতাইতে আক্রান্ত বিজেপির পোলিং এজেন্ট ও দুর্গাপুরেও তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতের ছবি ফুটে উঠেছে এবারের নির্বাচনে।

Continues below advertisement

এদিন সকাল থেকে সবচেয়ে বেশি খবর এসেছিল নওদা থেকে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের কনভয়ের গাড়িতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা। মুর্শিদাবাদের নওদায় হুমায়ুনের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের দিকে। হুমায়ুন কবীর বনাম তৃণমূল কর্মীদের ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি হতে দেখা যায়। আবার হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নওদার তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মুমতাজ জানিয়েছেন তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা মেরেছে হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি।