ঝাড়গ্রাম : ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের 'লোডিশেডিং' প্রসঙ্গে টেনে এর আগে বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে ভোটে নানা ভাবে কারচুপি করতে পারে বিজেপি। শনিবার ঝাড়গ্রামের সভা থেকে ফের একবার এই একই অভিযোগে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'কাউন্টিংয়ের দিন মনে রাখবেন, ওরা ভোটে যেমন স্লো ভোটিং করবে, কাউন্টিংয়েও স্লো কাউন্টিং করবে। এটা ওদের পরিকল্পনা। প্রথমে দেখাবে বিজেপির আসনগুলো জিতছে। আর আমাদের এরিয়াগুলো দেখাবে না। ওটা করতে করতে রাত্রি করে দেবে। তারপর কেন্দ্রীয় বাহিনী ভয় দেখাবে যাতে আমাদের লোকেরা পালিয়ে যায়।' 

Continues below advertisement

ঝাড়গ্রামের সভা থেকে মমতা এদিন বলেছেন, 'এসআইআর করে ৯০ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। ভোটের আগে করার কী দরকার ছিল? সবাই যদি অনুপ্রবেশকারী হয়, মোদিজি তুমি তাহলে কাদের ভোটে জিতেছ? এই লোকেদের ভোটেই তো জিতেছ, যেখানে থেকে ৯০ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। তাহলে তুমি কেন পদত্যাগ করবে না? অমিত ভাই তুমি কেন পদত্যাগ করবে না? তোমাদের সরকার কেন পদত্যাগ করবে না? বাংলায় ভোটে জিততে পারবে না জেনে মানুষের উপর হামলা করছ। মানুষের উপর সন্ত্রাস করছ। ডাইরেক্ট ভোট করো, যদি ক্ষমতা থাকে দিল্লির সব লাড্ডুকে নিয়ে এসে... যদি মনে করো বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দেবে, বাংলা কখনও হার মানে না, অপমান সহ্য করে না, মাথা নত করে না। আমার নাম করেও কেউ যদি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চায়, দেবেন না। ওরা বলবে টাকা দেবে। আপনার যেটুকু আছে সেটাও নিয়ে নেবে। বিজেপির লোকজন এজেন্সি সেজে আমাদের নাম করে চাইলেও দেবেন না। আর যদি বলে নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দিচ্ছে, তাহলে বুঝবেন কালো টাকা ঢোকাচ্ছে।' 

এবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এবার ২ হেভিওয়েটের লড়াই ভবানীপুরে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন 'কুরুক্ষেত্র' ভবানীপুর। ২০২১ সালের নন্দীরগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও মহাকাব্যিক লড়াই দেখা যাবে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই নজরে রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্র। এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে লড়বেন। সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূলের পবিত্র কর। শোনা যায়, একসময় শুভেন্দুর হাত ধরেই বিজেপিতে গিয়েছিলেন এই পবিত্র কর। তবে ভোটের একদম আগে আগেই দল বদলে তৃণমূলে ফেরেন পবিত্র এবং রাতারাতি টিকিটও পেয়ে যান। এমনকী পবিত্র কর প্রার্থী হওয়ার পর দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও দেখা গিয়েছিল। 

Continues below advertisement