সুনীত হালদার, হাওড়া : আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগে সাঁতরাগাছি, শালিমার, হাওড়া স্টেশনে দেখা গেল, ভিনরাজ্য থেকে অনেকেই ট্রেনে চেপে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি। এই আবহে স্টেশনে স্টেশনে দেখা গেল এই ছবি। ভিনরাজ্য থেকে অনেকেই ট্রেনে চেপে পশ্চিমবঙ্গমুখী।
কয়েক মাস আগে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দেখা গেছিল এই ছবি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঠাসাঠাসি করে ট্রেনে চেপে বিজেপি জোট শাসিত বিহারে ফিরছে। ভোট মিটতেই আবার কাজের জন্য় নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তারা। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের আগেও সেই ছবি। ভিনরাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরার ছবি। ভোট দিতে ভিনরাজ্য থেকে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কাল প্রথম দফা, ১৬ জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ট্রেনে ফিরছেন পরিযায়ীরা ফিরছেন উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। দিল্লি, বিহার, সিকিম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফিরছেন পরিযায়ীরা। শিলিগুড়ি থেকে বাসে রওনা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। বাসগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়, জায়গা না থাকায় ছাদেও ভিড়।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, '৭১টা ট্রেন আসছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা তাতে উঠছেন। সেই ট্রেনগুলো কলকাতায় আসছে। তারা হইহই করে আসবে। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতে আসছে। একটু অনুরাগের ছোঁয়া দিয়ে চলে যাবে। আরও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়বে। আসছে সবাই।' বিজেপি যখন এই ছবিতে উচ্ছ্বসিত, তখন এই ছবি নিয়ে বিকর্ত উস্কে দিয়েছেন হাওড়ার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা অরূপ রায়। হাওড়া সদরের তৃণমূল প্রার্থী বলছেন, 'এরা পরিযায়ী শ্রমিক না অন্য রাজ্যের ভোটার?'
রেল সূত্রে দাবি, ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রেল সূত্রে খবর, এই ট্রেনগুলো 'সামার স্পেশাল' হিসাবে চালানো হবে। যাঁরা আসছেন তাঁদের প্রায় সকলেই বলছেন, ভোট দিতেই এসেছেন। ভোট দিয়ে আবার ফিরে যাবেন কাজের জায়গায়। এ রাজ্যে কাজ না পাওয়া নিয়ে আবার ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন অনেকে।
পশ্চিমবঙ্গে এবার বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে ২ দফায়। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল। ১৬ জেলায় ১৫২ আসনে ভোট গ্রহণ হবে এই দফায়। দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। বাকি ৭ জেলায় ১৪২ আসনে ভোট গ্রহণ হবে সেদিন। আর ভোটের গণনা আগামী ৪ মে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নিরাপদে এবং অবাধে সুষ্ঠু ভোট করতে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি কোণা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি লাগু হয়েছে একগুচ্ছ নিয়মকানুন।
