কলকাতা: জীবনের বড় একটা পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল। পাস মার্ক পেলেই হবে না, হতে হবে প্রথম। রেজাল্ট আউটের আগের দিন কীভাবে কাটাচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা? বুক দুরুদুরু, নাকি টেনশন ফ্রি? খোঁজ নিল এবিপি আনন্দ।
রাত পোহালেই রেজাল্ট আউট! বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। যত ভাল পরীক্ষার্থীই হোক না কেন, ফল প্রকাশের আগের দিন বুকটা দুরুদুরু। করেই! তার ওপর ভোট বলে কথা! ফল প্রকাশের আগের দিন কী করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। চাপা চিন্তা, নাকি টেনশন ফ্রি? খোঁজ নিতে বেরিয়েছিল এবিপি আনন্দ।
মানিকতলা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে। বাবা সাধন পাণ্ডে ও মা সুপ্তি পাণ্ডের আসনে এবার লড়াই করছেন মেয়ে শ্রেয়া। ফ্রেন্ড-ফিলোজফার অ্যান্ড গাইড হয়েছেন মা। মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, যারা সারা বছর পড়াশোনা করে, তাদের কোনও টেনশনই নেই। কিন্তু অন্য পরীক্ষার সঙ্গে এই পরীক্ষার অনেক তফাত। এখানে ভাল করলেই হবে না, হতে হবে একেবারে প্রথম। বারনগরের CPM প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র মানেন সে কথা। তাই কিছুটা হলেও টেনশনে তিনি। সায়নদীপ বলছেন, 'গাড়ি বাড়ি টাকার জন্য দাঁড়াইনি। অধিকারের লড়াই। ভাল সরকার দিতে হবে। টেনশন হচ্ছে না তা নয়।' ভোটের জন্য দীর্ঘদিন বাড়ি আসাই হয়নি। ভোটের মিটতে বাড়িতে এসেছেন। সময় দিচ্ছেন ২ মাসের ছেলেকে।
আগের বার লড়াই করে জিতেছিলেন। সুজিত বসু এবারও লড়াই করেছেন বিধাননগর আসনে। ভোটের সময় নাওয়া-খাওয়ার সময় ছিল না। এখন মিলেছে একটু অবসর। ফিরে এসেছে রোজকার রুটিন। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, পড়াশোনা ভালই করেছেন, তাই এবারও তিনি হবেন ফার্স্টবয়। বিধাননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বলছেন, 'সকলের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। অফিস চালাচ্ছি। কাজও করছি। মানুষ ২ হাত তুলে আশীর্বাদ। সরকার গডব আমরাই।'ভোটের সময় বরানগরই ছিলে বাড়িঘর। ভোট শেষ, ফের কলকাতার বাড়িতে ফিরেছেন সজল ঘোষ। অনেক দিন পর নিজের পাড়ায় চলছে জমিয়ে আড্ডা। আর ফলাফল নিয়ে চিন্তা মাথায় এলেই ঘুমিয়ে পড়ছেন বরানগরের বিজেপি প্রার্থী। সজল ঘোষ বলছেন, 'চিন্তা হচ্ছে। সেই চিন্তা হলে ঘুমিয়ে নিচ্ছি। টেনশন হয়। তবে জয়ের ব্যাপারে, সরকার গড়ার ব্যাপারে নিশ্চিত।'
