ভোটের বাদ্যি বাজতেই ফের রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গা। এরই মধ্যে রয়েছে বাঁকুড়ার ইন্দাসও। এবার বিজেপির নিশানায় ইন্দাসের পুলিশ ও প্রশাসন। ওই এলাকার পুলিশ ও ব্লকের আধিকারিকদের নিশানা করেছেন বাঁকুড়ার সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, ইন্দাস থানার পুলিশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত পতাকা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে। সাংসদের দাবি, পুলিশ নাকি বেছে বেছে শুধুমাত্র বিজেপির পতাকা ছিঁড়ে দিচ্ছে। যদিও তৃণমূলের ব্যানার বা পোস্টারে নাকি কোনও হাত পড়েনি। এ ছাড়াও আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হওয়ার পরও নাকি বিডিও অফিসে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি, অভিযোগ করেছেন বিজেপির সাংসদ।
বাঁকুড়ার সাংসদ সৌমিত্র খাঁর অভিযোগ, "এমন যদি চলতে থাকে, তাহলে ইন্দাস থানার ওসিকে পদ থেকে সরতে হবে।" এ ছাড়াও তিনি ওসিকে তৃণমূল ব্লক সভাপতি শেখ হামিদের ‘আজ্ঞাবহ' বলেও কটাক্ষ করেছেন।
এর পাল্টা দিতে একটুও দেরি করেনি তৃণমূল। ইন্দাসের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শেখ হামিদের পাল্টা কটাক্ষ, "বিষ্ণুপুরের সাংসদ পাগল, এটা গোটা পশ্চিম বাংলার মানুষ জানে।" তাঁর ব্যাখ্যা, হারের ভয়েই এখন প্রলাপ বকছেন বিজেপি নেতা। তবে, এই রাজনৈতিক চাপানউতোর কী শুধুমাত্র ভোটকে উপলক্ষ্য করেই? নাকি সত্যিই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়, সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।
ভোটের আগে এই চাপানউতোর কি কেবলই রাজনৈতিক গিমিক, নাকি সত্যিই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? ইন্দাসের আমজনতা এখন সেদিকেই তাকিয়ে।
এদিকে, প্রার্থী ঘোষণা করল নৌশাদ সিদ্দিকির (Naushad Siddiqui) ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (Indian Secular Front) বা আইএসএফ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য ISF মোট ২৩ বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর নাম জানিয়ে দিয়েছে। যদিও ISF আগে জানিয়েছিল, তারা মোট ৩৩টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আর সেই অনুযায়ী, এবার ২৩টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিল তারা। বাকি কেন্দ্রে প্রার্থী পরে ঘোষণা করবে তারা। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও বলেন, গত ৭ মাস ধরে বামেদের সঙ্গে তাঁদের একটা আলাপ আলোচনা চলছে। এমনকি তিনি এও জানান, গত বিধানসভায় যে ৭টি সিটে লড়েছিল ISF এবারএ সেই ৭টি সিট ও তার পাশাপাশি বাদুড়িয়াতেও লড়তে চাইছে তাঁর দল। একাধিক উল্লেখযোগ্য সিট 'বৃহত্তর স্বার্থে'র কারণে বামেদের ছাড়া হয়েছে বলেও জানান নৌশাদ।
