কলকাতা : ২০২৪ সালে ৭ দফায় লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। তাই এবার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কত দফায় ভোট হবে রাজ্যে? এই প্রশ্ন ঘুরছিল অনেকের মনেই। তবে এবার ২ দফাতেই বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এবার ভোটের আগে থেকেই অতিরিক্ত তৎপর ছিল নির্বাচন কমিশন। নিরাপদে, সুষ্ঠু ভোট করানোই ছিল তাদের লক্ষ্য। আর সেই কারণে ভোটের আগে থেকেই কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবে হিংসার ছবি দেখা যায়নি। এমনিতে ভোট বললেই পশ্চিমবঙ্গবাসী 'লাশের রাজনীতি' দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এবার সেই চিরাচরিত ছবি দেখা যায়নি এ রাজ্যে। নিরাপত্তার ব্যাপারে কমিশনের এতই কড়াকড়ি ছিল যে 'রক্তপাত' সেভাবে ঘটেনি ২ দফার ভোটে। তবে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। কোথাও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। অনেক জায়গায় এই দৃশ্যও দেখা গিয়েছে জমায়েত, ভিড় হঠাতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, সব সামাল দিতে লাঠি চার্জ করেছে পুলিশ। তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে ২ দফায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। আর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। প্রথম দফায় ভোট হয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম - এই ১৬ জেলায়। দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান - এই ৭ জেলায়। ফলতায় নতুন করে ভোট হবে ২১ মে। ফল ঘোষণা ২৪ মে। অতএব আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হওয়ার কথা।
ব্যাপক হারে ভোট পড়েছে ২ দফাতেই। নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী তৈরি করে অবাধে ভোট করাতে সফল কমিশন। সকাল থেকেই বুথে বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় নজর কেড়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ অবজার্ভার আইপিএস অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হয়েছিল এই পুলিশ আধিকারিককে। প্রকাশ্যেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে কড়া বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে এই আইপিএস- কে। 'সমস্যা করলে উপযুক্ত দাওয়াই দেওয়া হবে', এমন বার্তাই দিয়েছিলেন অজয় পাল শর্মা। ভোটের দিনও অ্যাকশন মোডেই ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ অবজার্ভার। তবে এর পাল্টা ফলতার জাহাঙ্গিরও বলেন, 'পুষ্পা ঝুকে গা নেহি'।
প্রথম দফার বিধানসভা ভোটে নজরে পড়ার মতো ঘটনা
- শিলিগুড়িতে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ। এক মহিলা ভোটারের অভিযোগ, ভোট দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভোট পড়ে গিয়েছে।
- মুর্শিদাবাদের নওদায় ভোট কেন্দ্র থেকে সামান্য দূরেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তি হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরের। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকে।
- এবারের বিধানসভা ভোটে চর্চায় রয়েছেন সাগরদীঘির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। ফল ঘোষণার আগেই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে 'আমি হারছি' এমন মন্তব্য। এর পাশাপাশি আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বায়রন।
- কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীকে তাড়া করে মারধর করার মতো ঘটনাও দেখা গিয়েছে প্রথম দফার নির্বাচনে।
- লাভপুরে বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের মাথা ফেটেছে প্রথম দফার ভোটে।
দ্বিতীয় দফার ভোটে নজরে পড়ার মতো ঘটনা
- সকাল থেকেই বুথে বুথে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যান্যবার ভোটের দিন বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট দিয়ে ফের বাড়িতেই চলে যেতে দেখা যেত তাঁকে। তবে এবারের ছবি ছিল অন্য। ভবানীপুর, কালীঘাট, একবালপুর -সব জায়গাতেই গিয়েছেন তিনি।
- দ্বিতীয় দফার ভোটে কালীঘাটে শুভেন্দু অধিকারী যাওয়ার পর পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সেখানে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থক,মহিলা ভোটাররা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বহিরাগতরা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে বাহিনী চেয়ে পাঠান শুভেন্দু। নিমেষে কালীঘাট চত্বর ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।
- দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছিল মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবার এবং ফলতায়। তিন জায়গাতেই রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ইভিএম মেশিনে বিজেপির বোতামে টেপ লাগানো ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাটে পুনর্নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। ফলতার পুরো ভোট বাতিল হয়েছে। আগামী ২১ মে সেখানে ভোট হবে। আর ২৪ মে ফল বেরোবে। তাই আগামীকাল ৪ মে ২৯৩টি বিধানসভায় ভোট গণনা হবে রাজ্যে।
