কলকাতা: ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার রাজ্য়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। কোচবিহার রাসমেলা ময়দানে 'বিজয় সংকল্প সভা' দিয়ে শুরু হবে মোদির সফর। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথম প্রচারে কোচবিহারে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। এখানে রাসমেলা ময়দানে প্রচার সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। যেই সভার নাম দেওয়া হয়েছে 'বিজয় সংকল্প সভা'। আগামীকাল ৫ এপ্রিল শুধুমাত্র কোচবিহারেই প্রচারে থাকবেন নরেন্দ্র মোদি। তবে উত্তরবঙ্গ সফরে আরও প্রচার সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে যে আগামী ৯ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর তিনটি সভা রয়েছে। হলদিয়া, সিউড়ি ও আসানসোলে সভা করবেন। এরপর ১০ এপ্রিল শিলিগুড়িতে রোড শো রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। 

Continues below advertisement

এবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে একবার নরেন্দ্র মোদি এসেছিলেন বাংলায়। ব্রিগেডে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাঙালির আবেগকে কাজে লাগাতে ইতিমধ্যেই বিজেপি উঠেপড়ে লেগেছে। মোদির সেই সভায় মঞ্চ সেজে উঠেছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। সেখান থেকেই বাংলার মানুষকে বার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এছাড়াও তৃণমূল সরকারের দুর্নীতিকেই অস্ত্র করে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগেও মার্চ মাসে ব্রিগেডে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেবার ২০০ আসন জয়ের টার্গেট নিলেও ৭৭-এই থামতে হয়েছিল বিজেপিকে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'আমি বিহারে নির্বাচনে জয়ের পরই বলে দিয়েছিলাম, মা গঙ্গার আশীর্বাদে এবার বাংলাতেও বিকাশের গঙ্গা বইবে। আর বিজেপি এই কাজ করেই ছাড়বে।' আগামীকাল থেকে যে প্রচার সভায় অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদি. সেখান থেকে কী বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী তা এখন লক্ষ টাকার প্রশ্ন। 

এর আগে এই রাজ্যে এসে মোদি জানিয়েছিলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক জেলার সামর্থ্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে এমনটাই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি প্রত্যেক জেলার উন্নতিতে লক্ষ্য রাখবে। জুটের প্যাকেজিংকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বিজেপি সরকার। তিনি বলেছিলেন, ''আমার স্বপ্ন দুনিয়া জুড়ে বাজারে ভারতের কৃষক, ভারতের পশুপালক ও ভারতের মৎসজীবীরা ধুম মাচাবে।''

Continues below advertisement

এই রাজ্যে স্বাস্থ্যববস্থার হাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছিলেন, ''আমি চাই, দেশের বাকি অংশের মতো বাংলার গরিবরাও ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পান। এখানে আয়ূষ্মান ভারত যোজনা লাগু হোক। কিন্তু, আজ বাংলা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র এমন রাজ্য যেখানে ৫ লক্ষ টাকার আয়ূষ্মান যোজনা লাগু হতে দেওয়া হয়নি। বিগত কয়েক বছরে এই যোজনায় দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ নিজেদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু, তৃণমূল বাংলায় গরিব ভাই-বোনদের আয়ূষ্মান যোজনার লাভ নিতে দেয় না। এত নির্মম সরকারের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় প্রয়োজন।"