সুজিত মণ্ডল, নদিয়া : আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন রয়েছে কল্যাণীতে। তার আগেই বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল সেখানে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় আসে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিজেপি কর্মীদের মারধর, কল্যাণীতে ধুন্ধুমার। বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ বিজেপি কর্মী। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে কল্যাণী থানা ঘেরাও করে বিজেপি। সমর্থকদের নিয়ে থানা ঘেরাও কল্যাণীর বিজেপি প্রার্থীর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। 'এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই', দাবি তৃণমূলের। যদিও আহত বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, 'নিজেদের বাড়িতে ছিলাম। বাড়িতে ঢুকে মেরেছে। তৃণমূলের গুণ্ডা, মস্তান, হার্মাদরা মেরেছে। বাইরে থেকে লোক এনেছি। আমরা চিনি না বেশিরভাগ লোককেই। কয়েকজন পরিচিত ছিল। আমাদের বাড়িতে ঢুকে মেরেছে। আমাদের ২ জন কর্মীর খোঁজ নেই।' বিজেপির মূলত অভিযোগ, তৃণমূল ভয় পেয়ে রাতের অন্ধকারে এভাবে তাদের কর্মী-সমর্থকদের আক্রমণ করেছে।
শুক্রবার রাতে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, গতকাল রাতে কল্যাণীর শহিদপল্লী এলাকায় একটি মাঠে বসেছিলেন কয়েকজন বিজেপি কর্মী। সেই সময় অতর্কিতে তাঁদের উপর হামলা হয়। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছিল বিজেপি কর্মীদের উপর। আচমকা চড়াও হয় তারা। এরপর বিজেপি কর্মীদের প্রচণ্ড মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর কল্যাণী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে ছিলেন কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনুপম বিশ্বাসও। পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপির ১০-১৫ জন ছেলে একটি ঘরে বসে মদ্যপান করছিল। অতিরিক্ত মদ্যপানের পর তারা 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি দিতে শুরু করে। অভিযোগ, এরপর নিজেদের মধ্যেই কুকথা বলছিল ওই যুবকরা। কল্যাণী ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পঙ্কজ কুমার সিংহ বলেছেন, 'মদ্যপ থাকায় ওরা বুঝতেই পারছিল না কী করছে। মারপিট হয়েছে। কিন্তু কাদের মধ্যে হয়েছে সেটা দেখতে হবে। নিজেদের মধ্যেই মারপিট করেছে। তারপর হয়তো কারও আত্মীয়-পরিচিত কেউ ঢুকে পড়েছিল, যেমন হয় আর কী...'
ভোট হওয়ার আগেই একপ্রস্থ তুলকালাম হয়ে গিয়েছে কল্যাণীতে। ভোটের দিনও কি তাহলে অশান্তি হবে এখানে? প্রশ্ন উঠছেই।
