কলকাতা : আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জোরকদমে চলছে ভোটপ্রচার। কথায় আছে ভোট বড় বালাই। তাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার তৃণমূলের হাতিয়ার সাপ-লুডো ! প্রচারে এবার লুডোর ছক ব্য়বহার করছে তৃণমূল। যেখানে, সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তৃণমূল সরকারের একাধিক প্রকল্প। আবার, সাপের মুখের জায়গায় রয়েছে বিজেপি নেতাদের মুখের আদলে তৈরি করা কার্টুন।
আট থেকে আশি, বাঙালির পছন্দের খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম সাপ-লুডো। ভোটের মুখে এবার সেটাই ঢুকে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। সাপ-লুডোকে প্রচারের হাতিয়ার করল তৃণমূল। প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের একটি কার্ড বিলি করছে তৃণমূল। তার একদিকে লেখা 'দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা'। সেই কার্ড খুললেই দেখা যাচ্ছে, সাপ-লুডো খেলার ছক। আর সেখানেই রয়েছে চমক। সাপ-লুডোর সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তৃণমূল সরকারের প্রকল্প এবং বিভিন্ন পদক্ষেপকে। যেমন ১২ নম্বরে থাকা সবচেয়ে বড় সিঁড়িতে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম। তেমনই সিঁড়ি হিসেবে রয়েছে যুবসাথী, বাংলার বাড়ির মতো প্রকল্পের নাম। আর ১০০ নম্বরে লেখা রয়েছে তৃণমূলের স্লোগান - জয় বাংলা।
সাপ-লুডোর সিঁড়িতে যখন ইতিবাচক দিক হিসেবে তৃণমূল সরকারের প্রকল্পকে তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই সাপের মুখের জায়গায় রয়েছে বিজেপি নেতাদের মুখের আদলে তৈরি করা কার্টুন। যেমন ৯৭ ও ৯৮ নম্বরে একটি দু'মুখো সাপের ছবি রয়েছে। যেখানে বিজেপির দুই শীর্ষ নেতার মুখের আদলে কার্টুন বসানো হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তাও। একটিতে লেখা 'মাতৃ ভাষায় কথা বন্ধ', অন্যটির মুখে লেখা 'মাছ, মাংস বন্ধ'। এছাড়া একাধিক নম্বরে রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতার মুখের আদলে তৈরি কার্টুন বসানো হয়েছে। যেমন ৮০ নম্বর ঘরে লেখা ভোটাধিকার বাতিল।
এই সাপ-লুডো নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। রবিবার কলকাতা পুরসভার ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর লিপিকা মান্না নস্করহাট দক্ষিণপাড়ায় মহিলা ভোটারদের মধ্যে এই বোর্ড বিলি করেন। সুভাষপল্লি রবীন্দ্রনগরে বোর্ড বিলি করেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের একটি বেসরকারি আবাসনে এদিন প্রচারে যান বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। সেখানেও তাঁর হাতে ছিল এই সাপ-লুডো। শেষ অবধি ভোটাররা কাকে সাপের মুখে ফেলবেন, আর কাকে মই দিয়ে ওপরে তুলবেন, তা জানা যাবে চৌঠা মে।
