ডেবরা: বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। জোর কদমে চলছে ভোট প্রচার। একদিকে প্রার্থীরা, অন্যদিকে রাজনৈতিক জগতের হেভিওয়েটরা নেমে পড়েছেন ময়দানে। কারণ, ভোটে জিতে সিংহাসন দখল করতেই হবে। এই অবস্থায় শুক্রবার ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচকে মাথায় রেখে মোট ১৫ প্রতিশ্রুতিযুক্ত সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করেছে বিজেপি। একগুচ্ছ সুবিধার কথা উল্লেখ আছে এতে। আবার ডেবরার জনসভা থেকেও বাংলার মানুষদের জন্য বড় বার্তা দেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

Continues below advertisement

সঙ্কল্পপত্র প্রকাশের পর শুক্রবার ডেবরায় জনসভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই সভা থেকে চাঁচাছোলা ভাষায় তৃণমূলকে আক্রম শানালেন তিনি। দুর্নীতি থেকে সিন্ডিকেট, সমস্ত বিষয় তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও তুলোধোনা করেন। এর পাশাপাশি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বার্তা দেন। ১৫ বছর সরকারে থেকেও কেন করতে পারেননি? নেপথ্যের কারণ কী? এই সমস্ত বিষয় তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অমিত শাহ বলেন, '' বন্ধুগণ, আজ আমি এখানে এসেছি যখন ঘাটালের বন্যা নিয়ে কথা বলব। আমি আর মোদীজি ঘাটালের উন্নয়নের জন্য ১৫,০০০ কোটি টাকার মাস্টার প্ল্যান পাঠাই। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ টাকা কেন্দ্র সরকার দিতো। কিন্তু TMC সরকার এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে শেষ করে দিয়েছে।'' ''আপনারা চিন্তা করবেন না, বিজেপির সরকার গঠন করুন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে আমরা এক বছরের মধ্যে লাগু করে বন্যার সমস্যা দূর করার কাজ শুরু করে দেব।''

Continues below advertisement

বন্যা নিয়ে অমিত শাহ আরও বলেন, '' ২৬ মিলিয়ন কিউবিক মিটার কাদার স্তর রূপনারায়ণ নদীতে জমা হয়েছে, কিন্তু মমতা দিদির সময় নেই। তিনি তো ভাইপো-কে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চাইছেন। আর বলছেন বিজেপি এলে দিল্লি থেকে শাসন চলবে।'' ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অমিত শাহের এই বার্তার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অনেকে মনে করছেন, কেন্দ্র চাইলেও তৃণমূল সরকার কী তবে এটা বাস্তবায়িত হতে দেয় নি?  যদিও কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ এনেছিল তৃণমূল। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান'কে বাস্তবায়িত করতে বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের টাকায় নয়, মাস্টার প্ল্যান হবে রাজ্যের টাকায়, জানিয়েছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, "ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে মোট ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। বলে বলেও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কিছু পাইনি। তাই ৫০০ কোটি বরাদ্দ করে রেখেছি আমরা। ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গিয়েছে ৩৪০ কোটি টাকা।"