কলকাতা: নির্বাচনের দামামা বেজে গেল পশ্চিমবঙ্গে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। আর তার পরই তৃণমূলের 'বিসর্জনের কাউন্টডাউন' বেঁধে দিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে বিদায় দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন রাজ্যবাসী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই ভাতা ঘোষণা করুন, যতই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিন, তাতে রাজ্যবাসীর মন গলবে না বলে আত্মবিশ্বাসী শমীক। 

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে দু'দফায় নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই নিয়ে কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শমীক। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বর্তমান সরকারকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। এই প্রকৃত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে, ফলঘোষণার ৪২ দিন পর থেকেই বিজেপি-র ঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে...আমরা মানুষের সামনে যা বলেছি...সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশনের নিরিখে ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। মহিলাদের জন্য কেন্দ্রের যে তহবিল রাখা আছে, তার বিতরণ করা শুরু হবে। অন্নপূর্ণা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মধ্য়ে দিয়ে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে প্রতি মাসে।"

এদিন ভোটগণনার আগে আগেই পুরোহিত এবং মোয়াজ্জেমদের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মমতা। বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু এতেও চিঁড়ে ভিজবে না বলে মত শমীকের। তিনি বলেন, "৫০০, ১০০০, ৩০০০ টাকা বাড়াতে পারেন। যাঁরা ভাতা নেন, তাঁরাও জানেন, এটা তাঁদেরই টাকা। ভাতা দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করবেন-এটা সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রবল হিংসা, বিডিও-কে দিয়ে ভোট লুঠ করানো, অসুরকে দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার পরও পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১১০০০-এর বেশি আসনে জয়ী হয়েছি। অনেক জায়গায় পঞ্চায়েত গড়েছি আমরায যে মহিলারা ওখানে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি! বাচ্চা মেয়েরা কি সাইকেল পায়নি! কন্যাশ্রী পায়নি! এভাবে মানুষকে অপমান করার অধিকার নেই কারও।"

Continues below advertisement

আদর্শ আচরণ বিধি জারি হওয়ার ঠিক আগে আগে ভাতা এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর ঘোষণা নিয়েও মমতাকে কটাক্ষ করেন শমীক। বলেন, "সমস্ত সরকারি কর্মচারী মুখ্যমন্ত্রীকে চেনেন। ওঁদের কাছে রাজনীতি খেলা। ঠিক ৯০ মিনিট হওয়ার দু'মিনিট আগে তৃণমূলের জালে বল ঢুকিয়ে দেবে মানুষ। সব ভাবাভাবির দিন শেষ। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ নতুন সরকার দেখতে পাবেন। রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরকার পরিচালনা করব আমরা।"

মমতার ওই ঘোষণাকে অনেকে মাস্টারস্ট্রোক হিসেবেও দেখছেন। কিন্তু শমীকের বক্তব্য, "অনেকেই ভাল স্ট্রোক নেন। স্কোরবোর্ডের কাছে সরাসরি ফিল্ডার দাঁড়িয়ে থাকলে কী হবে! এসব দিয়ে আর নির্বাচন হবে না। বিভাজন, হিংসা দিয়ে, এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া, খতম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া...এসব করে যারা নির্বাচন করতে চলেছে, এক সেকেন্ডে বোতাম টিপে মানুষ তাদের বিসর্জন দেবে।"