কলকাতা: হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। বঙ্গ ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। শেষ মুহূর্তে প্রচার সেরে নিচ্ছেন সব দলের প্রার্থীরা। প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করছেন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েটরাও। পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ, পদ যাত্রা ও জনসভায় একেবারে জমে উঠেছে বাংলার ভোট ময়দান। প্রার্থীরা একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রম শানাতে ছাড়ছেন না কেউই। শুক্রবার রায়দিঘিতে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সভা থেকে বিজেপিকে ৪ তারিখের পর 'দেখে নেওয়ার' হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাল্টা আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারীও।
বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে কী বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ?
শুক্রবার রায়দিঘির জনসভা থেকে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ''আগে একটা লোক চুরি করলে জেলে যেত, কিন্তু এখন চুরি করে লোকে বিজেপিতে যায়। আগে দুই নম্বরি করে জেলে যেত, এখন বিজেপিতে যায়। সাতখুন মাফ, ওয়াশিং মেশিন। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, এদের সব হিসাব হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, কিন্তু আমি এত উদার নোই। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে না, বাংলার ক্ষমতা কী তা ৪ তারিখের পর বোঝাব।''
তিনি আর একটি জনসভা থেকে বলেন, ''বিজেপি নেতাদের আমি অনুরোধ করব, যদি আপনারা ভাবেন লম্ফঝম্প করে এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করেন ৪ তারিখ কিন্তু রবীন্দ্রসঙ্গীত-এর সঙ্গে ডিজে বাজবে।'' আর এই মন্তব্যের পর শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা।
পাল্টা আক্রম শানিয়ে কী বলেন শুভেন্দু অধিকারী ?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরণের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিষেককে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বাঁকুড়ার সোনামুখীর জনসভা থেকে বলেন এমন ভাবে জেতান যাতে পার্টি অফিস খুলতে না পারে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৬ মাসেই পঞ্চায়েত ভোট। শুভেন্দু বলেন, ''আপনাদের এবারে শুধু দিবাকর ঘোরামীকে জেতান নয়। এমন ভোটে জেতান, এমন ভাবে জেতান যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস খুলতে লোক না পাওয়া যায় ৪ তারিখের পর। কথা দিয়ে গেলাম, চোর পঞ্চায়েতগুলোকে সব পাল্টে দেব। বিজেপি সরকার এলে ৬ মাসের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। প্রকৃত নির্বাচন হবে। আওয়াজ উঠেছে বঙ্গে, ১৫ বছর চোরকে দিলেন, ৩৪ বছর বাম, ৫ বছর রাম-কে দেওয়ার অনুরোধ করলাম।'' অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের MLA দেবাশীষ কুমারের বাড়িতে আয়কর তল্লাশি নিয়ে গর্জে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন ''ভোটের সময় আমাদের যারা ইনকাম ট্যাক্স দেখে তার বাড়ি তল্লাশি করতে করছ, একটুও লজ্জা নেই, একটুও ঘৃণা নেই, একটুও ভয় নেই। নির্লজ্জ, এদের বিদায় দিন।''
