সৌভিক মজুমদার , কলকাতা : ভোটের দায়িত্ব সামলাতে নির্বাচন কমিশনকে ভরসা করতে হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের উপর। সরকারি দফতর থেকে স্কুলের শিক্ষকদের উপর পরে দায়িত্ব। এ বছরও তার প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গিয়েছে। বহু অধ্যাপকদের কাছেও ভোটের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বার্তা পৌঁছেছে কমিশনের তরফে। এরই মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হন অধ্যাপকদের একাংশ। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপকদের একাংশকে ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতের পর্যবেক্ষণ, যেসব অধ্যাপকরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন এবং যাঁরা স্বেচ্ছায় কাজ করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকরী নয়। কেন অধ্যাপকদের এই ভোটে অপরিহার্য বলে মনে করছে কমিশন, সেই কারণ দেখাননি জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে আদালত। প্রশাসন যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে তাহলে কোনও সমস্যা তৈরি হয় না, আর মামলাও হয় না, মনে করছে আদালত।মামলাকারী অধ্যাপকদের দাবি ছিল, কেন তাদের এই নির্বাচনে অপরিহার্য বলে মনে করছে কমিশন সেই কারণ দেখানো হয়নি। তাঁদের পদমর্যাদা ও পে-স্কেল অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হয়নি।
আমাদের নিয়োগ করুন, আমরা যাব ডিউটি করতে , বলেন বিচারপতি
কলেজের অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করার বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি একটি মামলা দায়ের হয় আদালতে । বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনকে বলেন, 'বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তো আপনারা বিচারপতিদেরও পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সংস্থান রেখেছেন। আমাদের নিয়োগ করুন, আমরা যাব ডিউটি করতে।' তিনি কমিশনকে বলেন, 'আপনারা যখন খুশি নিয়ম বদল করছেন।' কমিশন উত্তরে বলে, 'একেবারে ভোটের মুখে মামলা করা হয়েছে। এখন নতুন করে লোক নিয়োগ করে ট্রেনিং দিয়ে ভোট করানো সম্ভব নয়। ' প্রত্যুত্তরে বিচারপতি বলেন, 'এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। যদি ভোটের পরে মামলা হয়, তখন কোর্ট কী করবে ? অনিয়ম দেখে আদালত চোখ বন্ধ রাখলে সেটা চলতেই থাকবে।'
কমিশনের যুক্তি
কমিশনের যুক্তি ছিল, ' এখন এই বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করলে ২৩ টি জেলাতেই আমাদের নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। এসআইআর-এর কাজে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। এই অবস্থায় এখানে কোর্ট হস্তক্ষেপ করলে গোটা নির্বাচন বন্ধ করে দিতে হবে। ' আদালত প্রশ্ন করে, 'তার মানে আপনারা অযৌক্তিক বিজ্ঞপ্তি দেবেন, আর সেটাকেই মান্যতা দিতে হবে? তাহলে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দিচ্ছি, সেখানে গিয়ে কমিশন এই যুক্তি দিক।' গতকালের পর শুক্রবারও এই মামলার শুনানি ছিল। তখনই আদালত সওয়াল-জবাব শুনে জানিয়ে দেয়, যারা মামলা করেছেন তাদের ভোটে কাজে অংশ নিতে হবে না।
