বাপন সাঁতরা, পূর্ণেন্দু সিংহ ও রঞ্জিত সাউ : ঠিক একমাসের মাথায় বিধানসভা ভোট। জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন শাসক-বিরোধী সব পক্ষ। কে, কীভাবে ভোটারদের নজর টানবেন, তাই নিয়ে যেন চলছে প্রতিযোগিতা।
কেউ হাতে গোটা কাতলা ঝুলিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারের দুয়ারে, কেউ এক ধাপ এগিয়ে ঢুকে পড়ছেন গেরস্থের হেঁশেলে। কেউ আবার ভোটারের মন পেতে তাঁর দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ চপ ভাজছেন। কথায় বলে ভোট বড় বালাই। তাই শাসক হোক বা বিরোধী, ভোট ঘোষণার পরে প্রথম রবিবাসরীয় প্রচারে সকলেই চাইছেন নজর টানতে।
পর পর তিনবার উলুবেড়িয়া উত্তর থেকে জোড়াফুলের প্রতীকে জিতে বিধায়ক হলেও, এবার হুগলির গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্মল মাজিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। রবিবার তাঁকেই দেখা গেল গোঘাটে বাড়ি বাড়ি ঢুকে জনসংযোগ করতে। এলাকার এক ভোটারের বাড়িতে ঢুকে মাছ-ভাতও খেলেন তিনি।
বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী ও রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে এবার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এদিন তাঁর প্রচারে দেখা গেল অভিনবত্ব। হাতে গোটা কাতলা মাছ নিয়ে ভোটারের বাড়ি বাড়ি ঘুরলেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, পদ্ম শিবির আমিষ বিরোধী বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল। তার উত্তর দিতেই নতুন এই পন্থা বেছে নিয়েছেন তিনি। শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, "বিজেপি এলে ৪-৫ পিস...ডবল ডবল মাছ খাবেন। আমার সংঘাত রাজনীতিবিদ সুজিত বসুর সঙ্গে। উনি লড়ছেন যে পার্টিটার জন্যে সেটা দুর্নীতির প্রতীক। প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক সন্ত্রাসের প্রতীক।"
জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছেন উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। প্রচারে বেরিয়ে এদিন ভোটারদের হাতে তুলে দেন নিজের ফোন নম্বর লেখা কার্ড। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, "মানুষ জনপ্রতিনিধিকে জেতায়, তারপর তাঁদের পায় না। আমাদের পার্টির তরফ থেকে আমরা মানুষের সঙ্গে একটা কানেকশনের ব্যবস্থা করেছি।"
একদিকে জনসংযোগ, অন্যদিকে চমক। প্রচারে বেরিয়ে শাসক-বিরোধী সব প্রার্থীদেরই একই মেজাজ। কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে দেখা গেল এলাকার মন্দিরে নাম সংকীর্তনে অংশ নিতে। কখনও করতাল বাজালেন, তো কখনও হারমোনিয়ামে ধরলেন সুর। বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় আবার প্রচারে বেরিয়ে বেকারত্বের ইস্যুকে সামনে এনে রাস্তার ওপর চপ ভাজলেন! সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্প ভুলে গেছে। আজকে ২৬ হাজার শিক্ষক... সেই শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে দুর্নীতির জন্য।"
প্রচারে বেরিয়ে রুটি বেলতে দেখা গেল হুগলির পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারিকে। ভোটারের দাঁড়ি কামিয়ে দিলেন বীরভূমের দুবরাজপুরের বিজেপি প্রার্থী অনুপকুমার সাহা। হুগলির আরামবাগে আবার জমাজল পরিষ্কার করতে দেখা গেল সিপিএম প্রার্থী বিথীকা পণ্ডিতকে।
