কলকাতা:নজিরবিহীন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বুধবার শেষ দফার ভোট। আর এই নির্বাচনে ময়দানে নামছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA। ইতিমধ্য়ে বহু জেলাতেই পৌঁছে গিয়েছে NIA-এর টিম। থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথাও বলেছে তারা। NIA সূত্রে দাবি, বিস্ফোরণ থেকে বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনায় নির্বাচন যাতে পণ্ড না হয়, সে জন্যই তাদের এই সক্রিয়তা।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশ, দ্বিতীয় দফাতেও বজায় থাকবে ট্রেন্ড ?

Continues below advertisement

 আজ শেষ দফার ভোট, প্রথম দফার মতোই বুথে বুথে কড়া নিরাপত্তা। এবার দু দফাতেই নজিরবিহীন ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের মুখে সক্রিয় একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সিও। ইডি থেকে ইনকাম ট্য়াক্স, এবার, দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচনে রাজ্যে সক্রিয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA। নাশকতা, সন্ত্রাসবাদী হামলা বা দেশের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে, এমন ক্ষেত্রে তদন্তের ভার যে সংস্থার হাতে, সেই NIA-কে এবার নামানো হয়েছে ভোটের মধ্য়ে। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় NIA-এর দল।   বোমা যেখানে উদ্ধার হয়েছে বা বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে বোমা নিয়ে যাতে কেউ দাপাদাপি করতে না পারে, কমিশনের নির্দেশে দলে ভাগ হয়ে গেছে NIA। আজ ৭ জেলার ১৪২ বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ। বহু জেলাতেই পৌঁছে গিয়েছে NIA-এর টিম।একাধিক জায়গায় থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথাও বলেছে তারা। যার প্রথমেই নাম রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের।

এছাড়া ডায়মন্ড হারবার থেকে শুরু করে কলকাতার কসবা, আনন্দপুর, উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, জগদ্দলের মতো এলাকা, নদিয়া, হুগলি, ও পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড়-সহ জায়গায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে NIA। যেখানে যেখানে নির্বাচন হচ্ছে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ  ২৪ পরগনার ভাঙড়, ডায়মন্ড হারবার, বারুইপুর, কলকাতার কসবা, নদিয়া, ব্যারাকপুর কমিশনারেটেও NIA-এর টিম। চলতি বছরের ১৮ মার্চ, ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। 

সম্প্রতি সেই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ওহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে NIA। এর পাশাপাশি শনি ও রবিবার এই ভাঙড় থেকেই ১০০-র কাছাকাছি বোমা উদ্ধার হয়। সেই ঘটনার তদন্তভারও NIA-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। NIA সূত্রে দাবি, বোমা বিস্ফোরণ থেকে তাজা বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনায় , নির্বাচন যাতে পণ্ড না হয়, ভোটাররা যাতে ভয় না পেয়ে যান, তারজন্যই তাদের এই সক্রিয়তা। 

এদিন সকালে প্রথমে বারুইপুর পুলিশ জেলায় বৈঠক করে NIA-এর টিম। এরপর একে একে আনন্দপুর, গুলশন কলোনি ও তিলজলাতেও যায় NIA। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক   কুণাল ঘোষ বলেন, হাল্লার রাজার হাঁকাহাঁকি। সর্বশক্তি দিয়ে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার হচ্ছে এই বাংলার ভোটে।  এখানে সমস্তরকম সেনা, আধাসেনা, সাঁজোয়া গাড়ি, CBI, ED, NIA, সেনাবাহিনী, BSF এদের সমস্তরকম আয়োজন, এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, এরা হেরে বসে আছে। মানুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এই কারণেই এবার NIA-কেও যোগ করছে। এদিন পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড় ও উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলেও যায় NIA-এর টিম।