কলকাতা : ভোট ঘোষণা হওয়ার আগে আশাকর্মী থেকে কর্মহীন যুবক-যুবতী, সবার জন্যই ঝুলি খুলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে চমক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়িয়েছেন, যা ইতিমধ্য়েই উপভোক্তাদের অ্য়াকাউন্টে পড়েছে । পাশাপাশি ভোটের মুখে বেকার যুবকদের জন্য মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা দিতে 'বাংলার যুব সাথী' নামে নতুন প্রকল্প শুরু করেছে তৃণমূল সরকার। টাকা ঢুকতে শুরু করেছে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে। এমনকী ভোটের মুখে সিভিক ভলান্টিয়ারদের অ্যাড-হক বোনাস বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রাজ্য সরকারকে।
৬০০ টাকা বাড়িয়ে ৭৪০০ টাকা অ্য়াড হক বোনাস করা হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ দফতরের নির্দেশিকার ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। ভোটের মুখে সিভিক ভলান্টিয়ারদের অ্য়াড হক বোনাস বৃদ্ধি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের যে কর্মীরা ‘প্রোডাক্টিভিটি লিঙ্কড বোনাস স্কিম’-এর আওতাভুক্ত নন এবং ৩১ মার্চ, ২০২৬ অনুযায়ী যাঁদের সংশোধিত বেতন মাসিক ৪৬ হাজার টাকার বেশি নয়, তাঁরা মাথাপিছু ৭,৪০০ টাকা বোনাস পাবেন। ২০১৯ সালের পশ্চিমবঙ্গ চাকরি নীতি মেনে এই বোনাস দেওয়া হবে।
বিরোধী দলের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সিভিক ভলান্টিয়ারদের তুষ্ট করার লক্ষ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা। তবে, প্রশাসনের দাবি এই ঘোষণা, একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ। অর্থ বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ীই এটি নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের দাবি , বিধানসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পরে এই ঘোষণাটি করা হয়েছে । তাই এই ঘোষণা বৈধ নয়। এটি সরাসরি নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি)-র লঙ্ঘন।
এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের অধীনে কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অধীনে কর্মরত গ্রাম্য পুলিশ (ভিলেজ পুলিশ) চলতি অর্থ বছরে এই বোনাস পাবেন।
ভোটের পরে নয়, ভোটের আগেই যাতে বেকার যুবকদের হাতে 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য সময় এগিয়ে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। অনেকেরই দাবি, বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখেই কি 'বেকার ভাতা' এগিয়ে আনা হল। ভোটের আগে অ্য়াকাউন্টে টাকা পড়লে 'ইতিবাচক মনোভাব' তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভোটের মুখে সিভিক ভলান্টিয়ারদের অ্য়াড-হক বোনাস নিয়ে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট চাইল রাজ্য সরকারের কাছে।
