রুমা পাল, কলকাতা : ১১ জন জেলাশাসক সহ ১৩ জন DEO-কে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছে নতুন দায়িত্বে আসা জেলাশাসকদের একাংশ। পুরনো জেলাশাসকরা নাকি বাড়ি ছাড়তেই চাইছেন না! এই অভিযোগের কড়া জবাব দিন এবার কমিশনও।
বাংলো না ছাড়ার অভিযোগ
বদলি হওয়া জেলাশাসকদের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন নতুনদের একাংশ। শুক্রবার DEO-দের সঙ্গে কমিশনের ভার্চুয়াল বৈঠকে নতুন দায়িত্ব পাওয়া কয়েকজন জেলাশাসক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কাজ তো করবেন, কিন্তু যে বাড়িতে থাকতে হবে সেটাই খালি করছেন না সদ্য বদলি হওয়া জেলাশাসকরা ৷ অভিযোগ, মালদা, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার-সহ বেশ কিছু জেলাশাসকরা বদলি হলেও তাঁদের বাংলো খালি করছেন না। এরপরই CEO মনোজকুমার আগরওয়াল কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী ২২ মার্চের মধ্যে খালি করতে হবে বাংলোগুলি।
নজিরবিহীন প্রশাসনিক বদল, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ
রবিবার ভোট ঘোষণার রাতেই কার্যত নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পরের দিন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত DG পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে, দায়িত্ব দেওয়া হয় সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। এরপর বদল করা হয় দুই রাজ্যের দুই ADG-সহ উনিশ জনকে। এরপর ডেপুটি কমিশনারদের পাশাপাশি সরিয়ে দেওয়া হয় এগারো জেলার DM ও কলকাতার দুই DEO-কে। অর্থাৎ, MCC চালুর পর থেকে কার্যত পুলিশ-প্রশাসনের খোলনলচেটাই বদলে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ কেন? প্রশ্ন তুলে কমিশনারকে সরাসরি চিঠিও লেখেন তিনি।
DEO-দের ভূমিকা কী?
জেলার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন 'District Election Officer' বা DEO. সাধারণত, জেলাশাসকরা এই দায়িত্ব পালন করেন। এখন কমিশনের নতুন দায়িত্ব পেয়ে নতুন অফিসাররা কীভাবে কাজ করেন, সেটাই দেখার। এবার অপেক্ষা ভোটের দিন, ২৩ ও ২৯-এ এপ্রিলের!কেমন হয় ভোট, সেটাই দেখার। কাকে ভোট দেবেন ভোটাররা? সেটাই আসল প্রশ্ন।
