কলকাতা: ভুরিভুরি কারচুপি ও বেনিয়মের অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় বাতিল করা হল ভোট। দিলীপ ঘোষ বলেন,  'ফলতা নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন ছিল। ফলতা হচ্ছে ব্ল্যাক স্লট। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ২০২৬-র পুনর্নির্বাচনে এত কড়াকড়ি করার পরেও লোককে চমকানো ধমকানো হচ্ছে। রাস্তায় এসে প্রতিবাদ করছে এত ভয় দেখানো হচ্ছে, ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।' 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, কাল ভোটের ফলপ্রকাশ, তার আগে স্ট্রংরুম নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ এই কেন্দ্রগুলিতে !

Continues below advertisement

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, ফলতার মানুষ বহু বছর ধরে ভোট দিতে পারেননি। তা সে পঞ্চায়েত ভোট হোক, বিধানসভা ভোট হোক। তাই নির্বাচন কমিশন সেখানে আগেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। তারপরেও ভোটাদের উপর হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ..গতকাল মানুষ প্রতিবাদ করে জানিয়েছেন যে, তাঁদের ভোট দানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গোটা বিধানসভা কেন্দ্র জুড়েই এবার পুনর্নির্বাচন হবে। এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন , কমিশন সেটাকেই সম্মান জানিয়েছে।'

কারচুপি ও বেনিয়মের অভিযোগে, ফলতায় ফের ভোট। ২৮৫টি বুথের সবকটিতেই পুনর্নির্বাচন হবে ২১ মে। ফল প্রকাশ হবে ২৪ তারিখ। বেনজির সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আরও এক নজিরবিহীন ঘটনা। বাতিল করা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় এখানে। কিন্তু কারচুপির অভিযোগে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায় বিজেপি। শনিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট বাতিল হচ্ছে। সেখানে পুনরায় ভোট হবে ২১ মে। ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।

ফলতা নিয়ে বিজেপির অভিযোগের পর তৎপর হন খোদ মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর নির্দেশেই ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে যান নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। জেনারেল অবজার্ভার ও অন্যান্য অফিসাররা মিলে স্ক্রুটিনি করেন। জমা পড়ে রিপোর্ট।সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর, ফলতায় পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে জানানো হল, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৬৮টি বুথে ভোট চলাকালীন বেনিয়ম ধরা পড়েছে। CCTV ফুটেজে অনেক বুথে একসঙ্গে অবাঞ্ছিত একাধিক মানুষকে একসঙ্গে ঢুকতে ও বেরতে দেখা গেছে। আবার বহু বুথে CCTV ফুটেজও মেলেনি। ১৩টি বুথের ফুটেজে ব্যাপক গরমিল দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটেই গোটা ফলতা কেন্দ্রে ফের ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।