কলকাতা : বঙ্গে ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন! আদর্শ নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকরী হতেই, পুলিশ-প্রশাসনের খোলনলচে বদলে দিয়েছে তারা। এবার ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের একগুচ্ছ বার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচন যাতে হিংসামুক্ত হয়, তার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হল। রাজ্যে হিংসামুক্ত ভোট , যাতে ছাপ্পা না হয়, বুথ জ্যাম না হয়, কেউ প্ররোচনা দিতে না পারে, যাতে প্রত্য়েক ভোটার কোনও ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারে, তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে পুলিশকে। তার জন্য এলাকা ভিত্তিক ভাবে তৈরি করতে হবে দাগি অপরাধীদের তালিকা, নির্দেশ কমিশনের। 

Continues below advertisement

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে কখন?          

কমিশনের নির্দেশ, সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় যেন পরিদর্শন করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের গাফিলতির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে সাসপেন্ড, ট্রান্সফার করতে হবে, ভোটারদের ভয় দেখালে পুনর্নির্বাচন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেবেন পর্যবেক্ষক, বার্তা কমিশনের। নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে, প্রয়োজনে FIR করতে হবে, অভিযুক্তরা গ্রেফতার হল কিনা খতিয়ে দেখতে হবে, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ কমিশনের। 

বুথে কী কী ব্যবস্থা                

এছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোট করাতে, রাজ্যজুড়ে ৮০ হাজার ৭১৯টি বুথের ভিতর ও বাইরে মিলিয়ে ২ লক্ষ সিসি ক্যামেরা ও ওয়েবক্যামে চলবে নজরদারি।কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও বুথে ওয়েবকাস্টিং আধঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকলেই সেখানে পুনর্নিবাচন করতে হবে। পাশাপাশি FST ও QRT গাড়িতে ৩৬০ ডিগ্রি PTZ ক্যামেরা-সহ লাইভ স্ট্রিমিং চলবে।   কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেওয়া হবে বডি ক্যামেরা।  সব ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ থাকবে কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। 

Continues below advertisement

ভোটারদের হুমকি দেওয়া হলে...         

এই আবহেই শুক্রবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, ভোটারদের হুমকি দেওয়া বা ভোট দিতে আটকানোর মতো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া বা সাসপেন্ডও করা হতে পারে। এখন মূল প্রশ্ন হল, এরপর কি হিংসামুক্ত ভোটের সাক্ষী হবে পশ্চিমবঙ্গ? এবার অপেক্ষা ভোটের দিনের! ২৩ ও ২৯-এ এপ্রিলের! কেমন হয় ভোট?