কলকাতা: সোমবার ভোটের ফলাফল। তার আগে বিভিন্ন জায়গায় উঠছে স্ট্রংরুম নিয়ে অভিযোগ। তৃণমূলের অভিযোগ, বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজের স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ফুটেজের ডিসপ্লে মনিটর প্রায় ১৭ মিনিট ধরে বন্ধ ছিল। অন্য়দিকে বর্ধমানে আবার বিজেপি প্রার্থীর দেওয়া ভিডিও ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, স্ট্রংরুমের বিল্ডিংয়ের দেওয়াল বেয়ে ছাদে উঠছেন একজন।
মাঝে আর একটা দিন। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে ভোট গণনা। তার আগে একাধিক জেলায় স্ট্রং রুম নিয়ে শাসক-বিরোধীর। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। এ ছবি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজের। এখানেই বারাসাত, দেগঙ্গা, অশোকনগর ও হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং রুম করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, শনিবার সকালে প্রায় ১৭ মিনিট ধরে সিসিটিভি ফুটেজের ডিসপ্লে মনিটর বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী। অশোকনগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আটটা নাগাদ, সেই গ্রুপে আমার কাছে একটা মেসেজ আসে। জানাল যে বন্ধ আছে। আমি অবজার্ভারকে জানাই, RO-কে জানাই, DM-কে জানাই। ১৭ থেকে ১৮ মিনিট ব্ল্য়াক আউট ছিল। এইটা হবে কেন? টিভি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। হল কেন কৈফিয়ত দিক। প্রশ্ন: আপনাদের লোককে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। বারাসাত বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, টিভি বন্ধ কে করল? কতক্ষণ টিভি বন্ধ ছিল। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। আমরা পূর্ণাঙ্গ ফুটেজ দাবি করেছি। আমরা মনে করছি ষড়যন্ত্র আছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত AERO-র দাবি, ডিসপ্লে মনিটারের সুইচ অফ থাকায় কিছু সময়ের জন্য় ফুটেজ দেখতে পাওয়া যায়নি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সুইচ অফ করল কে? বারাসাত AERO অভিজিৎ দাস বলেন, পাওয়ার বাটনটা বন্ধ ছিল। পাওয়ার বাটনটা প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সবকিছু চালু হয়ে গেছে। টিভিটা বাইরে থেকে বন্ধ করা হয়েছে। কারা করল তদন্ত চলছে আমরা দেখছি। ডিসপ্লে মনিটরে যে ১৭ মিনিটের ফুটেজ দেখা যায়নি, পরে তা বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের দেখানো হয়।
কমিশন সূত্রে খবর, কিছু সময়ের জন্য় সিসি ফুটেজের ডিসপ্লে মনিটরের প্লাগ কেউ খুলে নেয় বলে খবর আসে। তবে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। ইউনিভারসিটি ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে বর্ধমান উত্তর, বর্ধমান দক্ষিণ, ভাতার, আউশগ্রাম ও গলসি- এই পাঁচ কেন্দ্রের স্ট্রং রুম করা হয়েছে। বিজেপির তরফে দেওয়া সেখানকার এই ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিল্ডিংয়ের দেওয়াল বেয়ে ছাদে উঠছেন একজন। অন্ধকারে ওপাশে দাঁড়়িয়ে রয়েছেন আরেকজন। ভিতরে ঠক ঠক করে আওয়াজ হচ্ছে। এবার কী ভাঙছে না ভাঙছে সেটা আমরা কী করে জানব? বর্ধমান উত্তর বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস বলেন, বিল্ডিংয়ে বিকট শব্দ আসছে। সন্দেহজনক মনে হচ্ছে যে উত্তর বিধানসভার যে EVMগুলো রাখা আছে, তারপাশে নির্মাণ ভেঙে যে EVM ঢোকাচ্ছে না, তার কোনও গ্য়ারান্টি নেই। পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি স্বরাজ ঘোষ বলেন,আমরা সকাল থেকে দেখলাম আউশগ্রামের স্ট্রংরুমের মনিটারিং যে সিসিটিভি রুম করা হয়েছে। ৩.৪৫ থেকে ৩.৪৭, এই সময়ে ক্য়ামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দুই দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, জেলা নির্বাচনী দফতরের তরফে জানানো হয়েছে,গণনার ঘরগুলিতে AC এবং সিসি ক্য়ামেরা লাগানোর কাজ চলছে। তাই জন্য়ই কর্মীরা ছাদে উঠেছিলেন কাজ করতে। এই বিষয়ে সমস্ত তথ্য় প্রত্য়েক দলের প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে।এদিকে কালনা কলেজের স্ট্রংরুমের বাইরে সারারাত বসে থাকতে দেখা গেল পূর্বস্থলী দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথকে। অন্যদিকে, সল্টলেকের বিধাননগর কলেজে দেখা গেল কড়া নিরাপত্তা। এখানেই রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর ও রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং রুম করা হয়েছে।
