রাজীব চৌধুরী ও সোমক লাহিড়ী, কলকাতা: দিন দু'য়েক হয়েছে বাংলায় দুই দফার ভোটগ্রহণ (West Bengal Assembly Election 2026) শেষ হয়েছে। পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন, বাংলার ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নই এখন গোটা দেশে সকলের মুখে মুখে ঘুরছে। সোমবার, ৪ মে হবে ভাগ্যনির্ধারণ, মিলবে সেই উত্তর। এবার তুলনামূলক শান্তিতেই মিটেছে ভোটগ্রহণ পর্ব। তেমন ঝামেলা, অশান্তির খবর শোনা যায়নি। তবে ভোট শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস।

Continues below advertisement

মুর্শিদাবাদের (Murshidabad News) ইসলামপুর থানার লোচনপুর। সেখানেই গতকাল রাতে ৪০ নম্বর বুথের সিপিআইএম এজেন্ট রুহুল আমিন আক্রান্ত হলেন। রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রুহুল। অভিযোগ তাঁকে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির নেতৃত্বে একদল তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে চায়ের দোকানে মারধর করে। সিপিএম এজেন্টকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। রাতে রুহুলের পরিবার খবর পেয়ে কোনওক্রমে তাঁকে উদ্ধার করে। পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা যাচ্ছে। বরং, উল্টে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছুই হয়নি এমন দাবি করা হয়। সেই দাবির সমর্থনে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।   

              

Continues below advertisement

পুলিশি সহযোগিতা না মেলায় পরে রানীনগর বিধানসভার সিপিআইএম প্রার্থী জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। তারপরেই অবশেষে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং অভিযোগ উঠে ওই চায়ের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ একাংশ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনায় তীব্র অস্বস্তিতে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস।

আবার বৃহস্পতিবারই বিকালে মালদহে বিজেপির মণ্ডল সভাপতির উপরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি মহানন্দ মণ্ডলের রাস্তা আটকে ইট দিয়ে মারধর করে তৃণমূলের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের রতুয়ার মহানন্দাটোলার উত্তর বালুপুরে। দুষ্কৃতিদের হামলায় আক্রান্ত মণ্ডল সভাপতি মহানন্দকে ভর্তি করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিজেপির উত্তর মালদহের সভাপতি খগেন মুর্মু। গতকাল আক্রান্ত হলেও, ভোটের আগে থেকেই মহানন্দকে হুমকি দেওয়া হত বলে অভিযোগ।

খগেন বলেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে ভোটে সন্ত্রাস করতে পারেনি তৃণমূল। এখন সন্ত্রাস করে আমাদের দলের মণ্ডল সভাপতির উপরে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।' তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।