রঞ্জিত হালদার, ভাঙড় : ভোটের পরেই দিকে দিকে অশান্তি। এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। এক তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়ের নলমুড়ি। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ISF। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ভাঙড় থানার পুলিশ। এলাকা থমথমে রয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, গতকাল মাঝরাতে দলীয় ওই কর্মীর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা আগুন লাগিয়েছেন। ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় ভাঙড়ে। ইতিমধ্যে আইএসএফের বিরুদ্ধে ঘটনা নিয়ে ভাঙড় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এনিয়ে তদন্তও শুরু করেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। তাদের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলই দোকানে আগুন লাগিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্ট্রংরুমের সামনে 'লোহার দুর্গ'! EVM বদলের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন কুনাল, কী জানালেন ?
ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কর্মী মহিবুল মোল্লা বলেন, "কাল রাত ৭টার দিকে ঘটকপুকুরে আরাবুল যে অফিসটা করেছেন, সেখান থেকে এক্সিট পোল দেখে মিষ্টি খেয়ে...ওখান থেকে আরাবুল বার্তা দিয়েছেন, তৃণমূলের যারা আছে, তাদের দোকান-বাড়ি লুঠ করো। আমরা ভাঙড়, ক্যানিং দুটোই জিতছি। বিজেপি সরকারে আসবে। তৃণমূল সরকার থাকবে না। ওই বার্তা শুনে আইএসএফের যারা কর্মী আছেন বুথে বুথে...রাহুলের নেতৃত্বে আমার দোকানে হামলা করে ইলেক্ট্রিকের সরঞ্জাম, নতুন-পুরনো জিনিস সব খালে ফেলে দেয়। এরপর পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।" যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা রাহুল মোল্লা বলেন, "এটা হাস্যকর ব্যাপার। কারণ এই, যে দোকানটার কথা বলছেন সেটা খালি জায়গায় করা। দ্বিতীয়ত, আমাদের এমন দিন আসেনি যে কোনও এক কর্মীর যে দোকানে কিছু নেই সেখানে আগুন ধরাতে হবে। গ্রামের মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছে, এই ভোটে মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছে...ওরা কোথায় পালাবে সে রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না। গ্রামের মানুষের ওপর যা অত্যাচার করেছে গ্রামের মানুষ ওদের ছাড়বে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ওরা নিজেরাই দোকানে আগুন ধরিয়ে আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।"
কোনও বোমাবাজি নয়, খুনোখুনি নয়, রক্তপাত নয়। ভাঙড় সাক্ষী থেকেছে এক অন্য ভোটের। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিতেই মিটেছে সেখানকার ভোট। উৎসবের মেজাজে ভোট দেন ভাঙড়ের বাসিন্দারা। তবে এসবের মাঝে প্রাণগঞ্জে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও ISF কর্মী-সমর্থকরা।
