ভবানীপুর, কলকাতা : দ্বিতীয় দফার ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। আর এই দফার ভোটে মূল এপিসেন্টার হল ভবানীপুর। কারণ, এই কেন্দ্রে বাংলার দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অভিকারী। তাই ভোটের আগে ভবানীপুর কেন্দ্রে শেষ শনিবাসরীয় প্রচার সেরে নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। এবার এই প্রচার ঘিরে ফের দেখা দেয় তুমুল উত্তেজনা।
ফের উত্তেজনা ভবানীপুরে। শনিবার পদযাত্রা ও জনসংযোগ চলছিল ভবানীপুরে। একদিকে যখন শুভেন্দু অধিকারীর জনসংযোগ করছেন, ঠিক সেই সময়ে অন্যদিকে তখন গান বাজিয়ে পদযাত্রার মাধ্যমে প্রচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এই সময়ে মুখোমুখি হয়ে যায় দুই হেভিওয়েট-এর কর্মীসমর্থকরা। শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। একদিকে জয় বাংলা, অন্যদিকে জয় শ্রীরাম। আর এর পরই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। জনসংযোগ থামিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, '' আমার জনসংযোগ করার জন্য পারমিশন দিয়েছে ভবানীপুর থানা অংশটুকু, কালীঘাটের দিকটা দেয়নি। অনুমতি যেখানে নেই, আমি সেখানে যাবনা। কিন্তু ওই রুটেও মাইক বাজিয়েছি। যেটা পারমিশন নেওয়া রুট, সেই রুটে ইতরের দল, নর্দমার কীট, মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস চোরের পার্টি, তারা মায়িক বাজিয়েছে। ভবানীপুর থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব, কালীঘাট থানার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করব নির্বাচন কমিশনের কাছে।'' উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন দাখিল করার দিনও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অমিত শাহকে নিয়ে বিজেপির রোড শো ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল কালীঘাট চত্বরে। কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অমিত শাহের রোড শো পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দেওয়া হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগানও। পালটা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। স্লোগান ও পালটা স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি একেবারে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল সেই সময়ে। এক তৃণমূল সমর্থক বলেন, "একদিনের জন্য এসে ভবানীপুর দখল করতে পারবেন না। ৩৬৫ দিন এখানে মা-মাটি-মানুষের সরকার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকেন। এভাবে এন্ট্রি করতে দেব না আমরা।" এক তৃণমূল কর্মী বলেন, "অমিত শাহ টাকা খরচ করে কেন এসেছেন? জিতবে তো দিদিই!" আর একজন বলেন, "এরা ঘুরতে এসেছে। ৪ তারিখের পর কাউকে দেখা যাবে না। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ছিলেন, আছেন থাকবেন।"
