বহরমপুর : পরপর ২ দিন ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখোমুখি বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তবে এসব স্লোগান-বিক্ষোভকে যে তিনি মোটেই পাত্তা দিচ্ছেন না, সেটাও বুঝিয়ে দিলেন নিজের কথায়। রবিবার ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের সম্মুখীন হন অধীর চৌধুরী। এরপর তিনি বলেন, 'হাতি চলে বাজার, তো কুত্তা ভকে হাজার... কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনে আমাদের কোনও মাথা ব্যথা নেই। আমরা মানুষের কাছে আসব, ভোট চাইব, ভোট প্রচারে আসব, ভোট করাব। বহরমপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডেই সভাপতির বিরুদ্ধে ভোটারদেরকে ভয় দেখানো অভিযোগ উঠেছিল। আজ সেখানেই প্রচারে গিয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কংগ্রেস প্রার্থী জানিয়েছেন, মানুষের থেকে ভাল সাড়া পেয়েছেন। অধীর চৌধুরী বলছেন, 'মানুষকে ভয় দেখিয়ে রেখেছিল পুরভা ভোটে। এবার আর এসব হবে না। হবে না মানে হতে দেব না। তাদের ইচ্ছে থাকতেই পারে। তাদের ইচ্ছে পূরণ করতে দেব না। দেব না তো দেবই না। ভোটে হবে তো হবেই। নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে, অবাধ নির্বাচন করিয়ে ছাড়ব। বহরমপুরবাসী যেন ভরসা রাখেন। আগামী দিনেও এই শহরকে সন্ত্রাস মুক্ত, ভয় মুক্ত করার জন্য যা যা করণীয় সব করব। করব তো করবই।' 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন অধীর চৌধুরী। শনিবার প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। রবিবারও প্রচারে বেরিয়েই বিক্ষোভের সম্মুখীন হন অধীর চৌধুরী। একই দিনে তিন জায়গায় তাঁর প্রচার ঘিরে ছড়াল উত্তেজনা। আজ সকালে ভোটের প্রচার শুরুর পর বহরমপুরের দয়াময়ী কালিবাড়ি এলাকায় তাঁকে দেখে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। জানা যাচ্ছে, রাস্তার মোড়ে তৃণমূলের পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে জমায়েত করেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। অধীর চৌধুরীর মিছিল কাছাকাছি আসতেই তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মীরা। অধীর চৌধুরীর প্রচার আছে জেনেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আগেভাগে জড়ো হয়েছিলেন বলে খবর। বহরমপুরের পাশপাশি এদিন উত্তেজনা ছড়িয়েছে হোতা সাঁকো এবং কান্তনগরেও। 

গতকাল অধীর চৌধুরীর প্রচারে ধুন্ধুমার ঘটেছিল। এই ঘটনায় IC-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বহরমপুরের IC-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর কমিশন সূত্রে। অধীর চৌধুরী মনোনয়ন দেওয়ার দিনেও চরম বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। ৪ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, দাবি কমিশন সূত্রে।